শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১০:০৯ অপরাহ্ন

কাল থেকে কমতে থাকবে শৈত্যপ্রবাহ

কাল থেকে কমতে থাকবে শৈত্যপ্রবাহ

দেশের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় আজ সোমবারও বিস্তৃত থাকবে চলমান শৈত্যপ্রবাহ। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তা কমতে শুরু করবে। অর্থাৎ চলতি শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই দিন থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবারের তুলনায় গতকাল শৈত্যপ্রবাহের ব্যাপ্তি কমে এসেছে। আজ সোমবারও এই শৈত্যপ্রবাহ উত্তর-পশ্চিম এলাকায় বিস্তৃত থাকবে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তা কমতে শুরু করবে। অর্থাৎ চলতি শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই দিন থাকতে পারে। তবে ২৫ বা ২৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। আর জানুয়ারিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আসার পূর্বাভাস রয়েছে।

গতকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর বিভাগসহ গোপালগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, ফেনী, শ্রীমঙ্গল, পাবনা, বদলগাছী, যশোর, কুমারখালী, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

গতকাল রবিবার (২০ ডিসেম্বর) রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়া ও রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা।

কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গায় শীতের প্রকোপ বেশি। শীতে কষ্ট বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের। তবু তীব্র শীত উপেক্ষা করেই খুব সকালে তাদের কাজের সন্ধানে বেরোতে হচ্ছে। গতকাল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, সরকারিভাবে গতকাল পর্যন্ত ২০ হাজার ৭০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম শহরের বস্তি, চরাঞ্চল ও নদ-নদীতীরবর্তী এলাকায় হতদরিদ্র মানুষ শীতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেকেই খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। বাড়ছে রোগব্যাধি। শ্রমজীবীদের অনেকেই কাজে যেতে পারছে না। আবার কষ্ট স্বীকার করে কাজে বের হলেও রোজগার কমে গেছে।

কুড়িগ্রাম স্টেশন এলাকায় রেললাইনের পাশে আশ্রিত মোজান্মেল হক, নুর বক্ত আলী ও গোলেনুর বেগম জানান, উচ্ছেদের পর তাঁরা প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়ে আছেন। কোনো শীতবস্ত্র জোটেনি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলায় এরই মধ্যে ৩৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

চাঁদপুরে শীতে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করছে। বয়স্করাও কাহিল হয়ে পড়েছেন। গতকাল সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চাঁদপুরে আইসিডিডিআরবি, মতলব হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশুসহ ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেয়।

রাজবাড়ীতে কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড়। তাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, অ্যাজমা, সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী বেশি আসছে হাসপাতালে।

 

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com