বৃহস্পতিবার, ২৪ Jun ২০২১, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

হামিদুল মেম্বারকে বুকের বাম পাশে ৪টি গুলি করে রবি!

হামিদুল মেম্বারকে বুকের বাম পাশে ৪টি গুলি করে রবি!

গোপালগঞ্জের চাঞ্চল্যকর হামিদুল হক মেম্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামি রবিউল শরীফ ও তার সহযোগী আমির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার রাতে পুরান ঢাকার পাটুয়াটলী হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হামিদুল হক মেম্বার হত্যার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৩। সেই মামলাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার হামিদুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আততায়ী পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে।

আধুনিক তদন্ত কলাকৌশল ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক ও চালক আমির মোল্লাকে শনাক্ত করতে সমর্থ হয় সিআইডি। এরপর আমির মোল্লাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি রবিউল শরীফকে (৫৭) গ্রেপ্তারের জন্য সিআইডি যশোর ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে গতকাল রাত ১১টায় পুরান ঢাকার পাটুয়াটলী হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি জানায়, মূল আসামি রবি শরীফ গত ১১ ডিসেম্বর তার পূর্ব পরিচিত যশোরবাসী চশমার দোকানের মালিক আমির মোল্লাকে মোটরসাইকেল যোগে যশোর থেকে গোপালগঞ্জ পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তখন তার কথামতো আমির মোল্লা তার মোটরসাইকেল নিয়ে যশোর সদর হাসপাতালের সামনে আনুমানিক দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অপেক্ষা করতে থাকে।

এরপর রবি শরীফ কালো ব্লেজার, জিন্স প্যান্ট এবং সাদা সার্জিকাল মাস্ক পরিহিত অবস্থায় এসে বেলা ২টা ৫ মিনিটে যশোরের মনিরুদ্দিন পেট্রল পাম্পে তেল নিতে যায়। সেখানে তারা এক হাজার টাকা সমমূল্যের তেল গ্রহণ করে এবং আসামি রবি শরীফ ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে গোপালগঞ্জে যাওয়ার পথে কালনাঘাটের একটি চায়ের দোকানে চা পান করে বাজারে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেন।

সিআইডি আরও জানায়, গোপিনাথপুর বাজার থেকে হামিদুল হক মেম্বার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভ্যানে চড়ে স্থানীয় হাইস্কুল গেটের সামনে আসেন একই সময় বাজার থেকে মোটরসাইকেলে গোপিনাথপুর হাইস্কুলের গেটের সামনে রাস্তার পূর্ব পাশে পৌঁছলে মূল আসামি রবি শরীফ কাজের কথা বলে দ্রত মোটরসাইকেল থামিয়ে নেমে যায় এবং যাওয়ার সময় আমির মোল্লাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন।

এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে ভ্যানে চড়ে থাকা হামিদুল হক মেম্বারকে অত্যন্ত কাছ থেকে পিস্তল দিয়ে বুকের বাম পাশে চারটি গুলি করেন রবি। সঙ্গে সঙ্গে হামিদুল হক মেম্বার রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। হত্যার পর আসামি রবি শরীফ অপেক্ষারত মোটরসাইকেল চালক আমির মোল্লাকে দ্রত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। এ সময় আমির তাকে বলে যে, “ভাই, আপনি লোকটিকে মেরে ফেললেন”? উত্তরে রবি শরীফ বলে যে, “সে আমার অনেক ক্ষতি করেছে”, “তাড়াতাড়ি চল, না হয় ধরা খাবি।”

ঘটনার আকস্মিকতায় আমির এলোমেলো হয়ে পড়লেও মূল আসামি তাকে পুলিশের ভয় দেখায় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যশোর পৌঁছে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। পরে রবি শরীফ আবার মোটরসাইকেলেই যশোরের গোপপাড়া রোডে চলে আসে। এরপর মোটরসাইকেলের মালিক আমিরকে শাসিয়ে নিজ বাসায় চলে যেতে বলে সেও পালিয়ে যায়।

 

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com