মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা : স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা : স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলেকে গলা কেটে হত্যা মামলায় নিহত শামসুন্নাহারের স্বামী আবদুল করিমসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন- আবদুল করিমের দ্বিতীয় তৃতীয় শারমিন মুক্তা ও তার ভাই আল-আমিন ওরফে জনি।

আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। তার আগে গত ১০ জানুয়ারি এ আদালত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলের আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোডের ৭৯/এ নম্বর বাড়িতে শামসুন্নাহার (৪৫) ও তার ছেলে শাওনকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।এরপরের দিন ২ নভেম্বর নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলায় শামসুন্নাহারের স্বামী আবদুল করিম, তার তৃতীয় স্ত্রী শারমীন মুক্তা, করিমের শ্যালক (মুক্তার ভাই) জনিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

আবদুল করিম পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের মসলা ব্যবসায়ী।তিনি ২৮ বছর আগে নিহত শামসুন্নাহারকে বিবাহ করেন। তাদের সন্তান নিহত শাওন ‘ও’ লেভেলে পড়ালোখা করতো। আসামি করিম জনৈকা ফরিদাকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। ওই ঘরেও আকাশ নামে একটি সন্তান রয়েছে। পরে ফরিদাকে তালাক দিয়ে ৪ বছর আগে মুক্তাকে বিবাহ করেন। তৃতীয় বিয়ে করার পর আসামি করিম প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ খবর নিতেন না এবং মাঝে মধ্যে বাসায় এসে প্রথম স্ত্রীকে মারধর করতেন। হত্যাকাণ্ডের ৩-৪ মাস আগে করিমের তৃতীয় স্ত্রী মুক্তা বাসায় এসে নিহত শামসুন্নাহারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যান।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলমের আদালতে আবদুল করিমস, মুক্তা ও জনির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২২ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন।

 

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com