রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

তরুণদের উদ্যোক্তাদের পাশে শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ হোসাইন

তরুণদের উদ্যোক্তাদের পাশে শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ হোসাইন

নিউজ ডেস্ক: মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। তবে, মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড় হতে পারে যদি
সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের জন্য প্রতিটি নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে টান সৃষ্টি
হয়। আমরা যখন থেকে একটু একটু বুঝতে শিখি, তখন থেকেই আমাদের স্বপ্ন
দেখার যাত্রা শুরু হয়। আর মৃত্যুর মাধ্যমে সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। মানুষ
ঘুমিয়ে যা দেখে তা স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন হলো সেটাই—যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।
তিনি সব সময় ছিলেন স্বপ্নের পক্ষে এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য
আজও কাজ করে চলেছেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, স্বপ্ন ও স্বপ্নবাজরা সব
সময় সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তাই তিনি সবাইকে স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্নের
পেছনে তাড়া করতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বপ্ন দেখতে হবে।
কারণ, স্বপ্নটা চিন্তায় পরিণত হয়। আর চিন্তা মানুষকে কর্মে অনুপ্রাণিত
করে।

বলছি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন Youth
School For Social Entrepreneurs (YSSE) – এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোহাম্মদ
ইউসুফ – এর কথা।

এছাড়াও তিনি country Head of World Social Entrepreneurs Organization
and Country Director of Youth Global Network পদে নিযুক্ত আছেন। তিনি
সবসময়ই চেষ্টা করেন যুবসমাজের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও আরো কারিগরী দক্ষতা
বৃদ্ধি করার যা আমাদের দেশকে আরো উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে।

YSSE এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের একটি প্লাটফর্ম গড়ে
তুলেছেন, যা কার্যকর দিকনির্দেশনা এবং দক্ষ প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে
বিশ্বব্যাপী যুবকদের মধ্যে সংযোগের সেতু সরবরাহের জন্য কাজ করে।

প্রত্যেক ব্যক্তিরই স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জনিয়ার এবং অন্য
বিভিন্ন পেশায় যোগ দিবে। কিন্তু শেখ মোঃ ইউসুফ হোসেন ছিলেন একটু ভিন্ন

ধাঁচের। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্মকান্ডে
যুক্ত ছিলেন তিনি। তিনি দেখলেন বাংলাদেশের একটা বড় অংশ তরুণরা দখল করে
আছে। তরুণরা তাদের উদ্যম শক্তি নতুন কিছু তৈরি করে। তাই তিনি চিন্তা
করলেন তরুণদের নিয়ে কিছু করার। ২০১৫ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত “ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ
সামিট”-এ বাংলাদেশের তরুণদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের পর তিনি সেখান হতেই
বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে জানতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে
সামাজিক উদ্যোক্তার সঠিক ধারণা তখনও সুপ্ত ছিল বলে তিনি মনে করেন। তাই
দেশে ফিরেই সামাজিক উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সাংগঠনিক প্লাটফর্ম ও ট্রেনিং
সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। তখনই প্রথম প্লান করেন ‘ইউথ
স্কুল ফর সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরস’ এর।

কিন্তু এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিলো না কিন্তু তাঁর উদ্যম ছিল অনন্য। আর তাঁর
এই উদ্যমের সাথেই জুড়ে যায় একদল তরুণ, উদ্যমী ও জেদি পাগলের দল। আর
পরিবার থেকে কিছুটা অর্থ নিয়ে গড়ে তুললেন তার উদ্যোগ আজকের
‘ওয়াইএসএসই’।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বর্তমানে যুব সমাজের একটা বড় অংশ চাকরীর
পেছনে ছুটছে। ফলে তারা আজও বেকার অবস্থায় রয়ে গেছে। কিন্তু চাকরির পিছনে
ছোটা ছাড়াও যে আরো অনেক কিছু করা যেতে পারে সে সম্পর্কে তাদের কোনো
ধারণা থাকে না। তাদের নিয়ে কাজ করা তাঁর জন্য একটি নেশা হয়ে দাঁড়ায়।

কোনো পরিবারই চায় না তাদের সন্তান কোনো এমন কাজে জড়িয়ে পড়ুক যেখানে
অর্থেরসহ ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চয়তা না থাকে। শেখ মোঃ ইউসুফ হোসেনের
ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। তাঁর পরিবারের আগ্রহ ছিল চাকরী করার
প্রতি। কিন্তু তা না করে ‘ওয়াইএসএসই’ নিয়ে কাজ করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ
হিসেবে নিয়েছিলেন। এখন তিনি একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে দেশ ও
বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন উদ্যোক্তা একটি স্বাধীন পেশা।
তাই তিনি তরুণদেরকে আজও উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে উদ্ভুদ্ধ করেন।

‘ওয়াইএসএসই’ বর্তমানে ২৮ টি দেশে কাজ করছেন। নতুন উদ্যোক্তাদের পথ

প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত ৩০০ টিরও বেশি অনুষ্ঠান (ইম্প্যাক্ট টক,
বাংলাদেশ ইউথ সিম্পোজিয়াম) করেছে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাতে
প্রায় এক লাখ বেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবি অংশগ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানগুলোতে
প্রায় ১০০০ জন দেশী-বিদেশী অতিথি এসেছেন। যাদের মধ্যে বহুজাতিক
কোম্পানির সিইও, বিশ্ব সংস্থার প্রতিনিধি, স্বনামধন্য এসেছেন দেশের তরুণ
প্রজন্মকে উদ্ধুত করতে। এছাড়াও ওয়াইএসএসই তাদের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন
লাইভ সেশন পরিচালনা করে থাকে যেমন Behind The Journey, আজকের
তারুণ্য Career Talk যা তরুণদের তাদের কাজে উৎসাহ প্রদান করে থাকে এবং
বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকে।
তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ২০১৪ সালে Best Volunteer Award
এ ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় দেশ ও দেশের বাইরে তরুণদের নিয়ে করা
অনুষ্ঠানে স্পিকার, গেস্ট, Facilitator এর দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও আমি তরুণদের জন্য বিভিন্ন ধরণের নেতৃত্বের কর্মশালা এবং অতিথি
বক্তা হিসাবে বেশ কয়েকটি টিভি এবং রেডিও শোতে অংশ নেয়েছি। এখন পর্যন্ত
সর্বমোট ২০ টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৪ টির বেশি পলিটেকনিক
ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বহু-মাত্রিক কর্পোরেট প্রোগ্রাম আয়োজন করতে সক্ষম
হয়েছি।

মানুষের পাশে সহায়তার হাত বাড়ানোর জন্যে Charity hub নামে একটি
প্রতিষ্ঠান করেছি। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি অলাভজনক সংস্থা যা অসহায় মানুষ
ও এতিমদের জন্য খাদ্য, কাপড় অনুদানের মাধ্যমে এবং আর্থিক সহায়তা
প্রদানের মাধ্যমে দুর্দান্ত সেবা করছে।

শেখ মোঃ ইউসুফ হোসেন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, একজন
ব্যক্তিকে পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবার জন্যে সকল রকম
প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে ‘ইউথ স্কুল ফর সোশ্যাল এট্রাপ্রেনিউরস’
এর মাধ্যমে। ভবিষ্যতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ও স্বপ্ন দেখেন তিনি
যেখানে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com