রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

মানুষ কেন মঙ্গল-আচ্ছন্ন

মানুষ কেন মঙ্গল-আচ্ছন্ন

‘কলকল ছলছল নদী করে টলমল…’- এমন অতীত কি ছিল মঙ্গল গ্রহের? জল ছিল। আজও আছে, জমাটরূপে। কিন্তু জীবনের বিকাশ কি ঘটেছিল এই গ্রহে? এখনো কি জীবনের ছাপ পড়ে আছে লালগ্রহে? এ প্রশ্নের সুরাহা করতে মানুষকে সাহায্য করবে নাসার নবযান পারসেভারেন্স, বাংলায় যার অর্থ ‘উদ্যম’। জীবনচিহ্ন অনুসন্ধানে নিঃসন্দেহে নবউদ্যম। কিন্তু মঙ্গল থেকে আসা আগ্রাসী (ইনভেডারস ফ্রম মার্স) কিংবা মঙ্গলমানবীর (মার্স নিডস উইমেন) দেখা পাওয়া তো দূরের কথা, এখনো অণুজীবনের কানাকড়িও মেলেনি। তা হলে, মঙ্গল বলতেই মানুষ এত মোহাচ্ছন্ন কেন?

এ প্রশ্নটি করেছিলাম মঙ্গল-বিজ্ঞানী কলিন উইলসনকে। ব্রিটিশ এই গবেষক ২০১৬ সালের এক্সোমার্স মিশনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানী। ইমেইল আলাপচারিতায় তিনি এই লেখককে বলেছেন, ‘দেখুন, মঙ্গলের উপরিপৃষ্ঠ কিন্তু আদিম। এর বেশিরভাগ বৈশিষ্ট্য, উপাদান কিংবা আদল তৈরি হয়েছিল কয়েকশ কোটি বছর আগে। ওই সময় গ্রহরা বয়সে নবীন ছিল। মঙ্গলের গিরিখাত রয়েছে। এই গিরিখাতগুলো এবং আরও কিছু গঠন একটা কথাই বলে- এসব নিশ্চয়ই প্রবহমান বিশাল জলধির জন্যই তৈরি হয়েছে। ঠিক এই কারণেই যুগপৎভাবে একটা জিজ্ঞাসাও জন্ম নিয়েছে। আর তা হলো, মঙ্গলে কখনো কি আদিম প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল?’

কিন্তু মঙ্গল তো মহীয়ান কোনো গ্রহ নয়। অনেক উজ্জ্বল, পৃথিবীর নিকটতম, সবচেয়ে পুঁচকে, কিংবা যাত্রাপথ নিঃসংকট ও শঙ্কাশূন্য- নয় তো, তা হলে?

উইলসন মনে করেন মঙ্গলমুগ্ধতার আরেকটি কারণ আছে। তার ভাষায়, ‘মঙ্গল হলো সেই গ্রহ যেখানে আমরা জীবদ্দশায় অভিযান সম্পন্ন করতে পারি। এটা অনেক বড় রোমাঞ্চকর স্বপ্ন।’ বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও আশা করে, ‘মঙ্গলে একদিন মানুষ অবতরণ করবে’। মঙ্গলে জীবন খোঁজার আশা নিয়ে আমেরিকা এবং ইউরোপের বিজ্ঞানীরা একাধিক অভিযান চালিয়েছেন সূর্যের চতুর্থ গ্রহে।২০১৬ সালের পর এক্সোমার্স মিশনের দ্বিতীয় মঙ্গলযান যাত্রা করার কথা ছিল ২০২০ সালে। কিন্তু ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসা জানিয়েছে, ২০২২ সালে এ অভিযান শুরু হবে।

মঙ্গলে জীবনের সন্ধানে মার্কিন জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার পারসেভারেন্স রোভার বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে লালমাটিতে অবতরণ করে। মানুষ যে মঙ্গলপ্রেমী- এই অভিযানেও তার প্রমাণ মেলে। নাসার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পৃথিবীর প্রায় ১১ কোটি মানুষ তাদের নাম লিখিয়েছিল, যে নামগুলো এখন মঙ্গলের মাটিতে রয়েছে। এ নিয়ে এই লেখকের নাম দুবার মঙ্গল ছুঁয়েছে।

 

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com