সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১১ অপরাহ্ন

জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল -রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম

জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল -রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম

মোফাজ্জল হোসেন :
রুপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক বলেছেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এখন শুধু একজন ব্যক্তি নয়, একটি আদর্শের নাম, একটি চেতনার নাম,অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের একটি অনুভূতির নাম। তিনি তাঁর সততা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও শেখ হাসিনা একটি উন্নয়নের রোল মডেল। সেখানে শেখ হাসিনার বিকল্প একমাত্রই শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার বড় শক্তি তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান। ছোট বেলা থেকেই দেখেছেন পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য কত সংগ্রাম, কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের এই ভালোবাসা তিনি পিতার কাছ থেকেই পেয়েছেন। সম্প্রতি রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানের জন্য। সেজন্যই আজ বাংলাদেশের অবস্থান একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে। “উন্নয়নের রোল মডেল” হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকেই উদাহরণ হিসেবে দেয়া হয়। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর অবদান আজ আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। শান্তি,গণতন্ত্র,স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার,দারিদ্র্য বিমোচন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যতম নেতা যিনি বারংবার জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। স্বপ্লোন্নত ও দ্বীপরাষ্ট্র সমূহে জলবায়ু পরিবর্তনে যে কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছে সে বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সারা বিশ্বে তিনিই জোরালো কণ্ঠস্বর। সঙ্গত কারণেই জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে “চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ” পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। তিনি আরও বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মায়ানমারের সাথে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সমুদ্রসীমার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভারতের কাছ থেকে ১৯৪৬৭ বর্গ কি.মি ও মিয়ানমারের কাছ থেকে ৭০ হাজার বর্গ কি.মি এলাকায় অধিকার আদায় করা হয়েছে। কোন প্রকার সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়া এ ধরনের বিরোধ নিস্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। দীর্ঘ ৪১ বছর পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ১১১ টি ছিটমহলে ১৭ হাজার ১৬০ একর জমি পেয়েছ, ভারত পেয়েছে ৫১ টি ছিটমহলের ৭ হাজার ১১০ একর জমি।
রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আরও বলেন,বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র সমূহ যখন জঙ্গিবাদের কালো থাবায় আক্রান্ত,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমসিম খাচ্ছে,সেখানে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির কারণে জঙ্গী দমন ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। হলি আর্টিজমের ঘটনাসহ আরো বেশ কয়েকটি ঘটনা যেভাবে দ্রুত মোকাবেলা করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিশ্বনেতৃত্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার রোল মডেল দেশ এখন বাংলাদেশ। জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষমাত্রা অর্জনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিকনির্দেশনা ও সফল বাস্তবায়নের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। শুধু ৪৮ টি স্বল্পন্নোত দেশই নয় অনেক উন্নয়নশীল দেশ থেকেও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,যখন মিয়ানমারে জাতিগত নিধনে লক্ষ লক্ষ মানুষ অসহায়,সম্বলহীন হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত,পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যখন সীমান্ত সীল করে দিয়েছিল তখনই অসহায় মানুষ গুলোর কাছে দেবদূত হয়ে আবির্ভূত হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সীমান্ত দরজা খুলে দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পৌঁছে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। পৃথিবীর বৃহত্তম শরণার্থী শিবির এখন বাংলাদেশে। তলাবিহীন ঝুড়ি আজ ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য,বস্ত্র, চিকিৎসাসহ যাবতীয় ভরনপোষণের দায়িত্ব পালন করছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের সকল দেশের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন “বিশ্ব মানবতার মা” হওয়ার বিরল সম্মান।
শুধু তাই নয়,করোনামহামারি করোনা কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। গত ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পরই তিনি দায়িত্বশীলতার সাথে লকডাউন এবং জীবন-জীবিকার সচল রাখার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। উন্নত দেশগুলো যখন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ তখন প্রধানমন্ত্রীর জীবন ও জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে যেসব অভিনব পন্থা গ্রহণ করেছিলেন যার ফলে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সাফল্য লাভ করেছে। মৃত্যুহার সর্বনিম্ন পর্যায় রয়েছে। এতবড় বিপর্যয়ের পরও অর্থনীতি একটি মজবুত অবস্থানে রয়েছে। করোনা শনাক্তের একমাসের মধ্যে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে তেমন কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং অর্থনীতির চাকা সচল থেকে সবসূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। সবশেষে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সু-স্বাস্থ্যসহ দীর্ঘায়ু কামনা করছেন।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com