রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ১০:১৯ অপরাহ্ন

মরিচ চাষে সফল আবুল হাসানাত

মরিচ চাষে সফল আবুল হাসানাত

মোঃ আসাদুজ্জামান নূর, মনোহরদী (নরসিংদী) :
নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার প্রান্তিক চাষিরা মরিচ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার খিদিরপুর,লেবুতলা,শুকুন্দী ও দৌলতপুর ইউনিয়নে অনেক চাষি মরিচ চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। অল্প জায়গায় কম পুঁজিতে অধিক লাভ পাওয়ায় এ উপজেলার মরিচ চাষির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনোহরদী উপজেলার মরিচ চাষিদের মাঝে একজন সফল মরিচ চাষি হলেন মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের মোহাম্মদ আবুল হাসানাত। সংসারে অভাব ছিল তার নিত্য দিনের সঙ্গী। সাফল্যের জন্য প্রয়োজন অনুশীলন, কঠোর পরিশ্রম ও নিজের কাজের প্রতি ভালবাসা। এ সবের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ন স্থাপন করেছেন মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দি ইউনিয়নের রুদ্রদী গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আবুল হাসানাত। ধৈয্য আর পরিশ্রমে বদলে যেতে থাকে তার জীবন। সবুজ মরিচের ব্যাপক ফলনে তার জীবনে নেমে আসা দারিদ্রতা এখন নিরুদ্দেশ। মরিচ চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরে হাসি ফুটেছে তার পরিবারে। আবুল হাসানাত জানান, ১৪ বছর বয়সে তার পিতা মারা যান, তখন সংসারে হাল ধরার মত কেউ ছিল না তার। পিতার বড় ছেলে হিসেবে সংসারের হাল ধরেন তিনি। তিনি প্রথমে সামান্য ১০ শতাংশ জমি নিয়ে মরিচ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ২বিঘা জমিতে কাচা মরিচ চাষ করছেন। এখন সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বছর তার আয় হয় ৭০ থেকে আশি হাজার টাকা। আবুল হাসানাতের মরিচ চাষে সফলতা দেখে উৎসাহিত হয়ে রুদ্রদী এলাকার অনেক কৃষকই বর্তমানে মরিচ চাষে জোঁকছেন এবং মনোহরদী উপজেলায় বর্তমানে অনেক কৃষকই মরিচ চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। উৎপাদন খরচ বেশী হলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই মরিচের ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই অন্যান্য ফসলের সঙ্গে চাষিরা মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সল্লাবাইদ গ্রামের মরিচ চাষি বাবুল মিয়া, আব্দুল কাইযুম, শরিফুল ও কফিল উদ্দিন জানান, এ বছর মরিচের ফলন ভাল হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মরিচের ফলন ভাল হয়েছে। অতি অল্প খরচেই কোনো প্রকার রাসায়ানিক সার ও কিটনাশক ওষুধ ব্যবহার না করেও অল্প সময়েই বাড়তি লাভ পেয়ে খুঁশি আবুল হাসানাত। এ বিষয় নিয়ে সল্লাবাইদ গ্রামের মরিচ চাষী আবুল হাসানাত জানান, আমার এ অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা দেখে চন্দনবাড়ী, হাররদিয়া, শরিফপুর, চালাকচর, মির্জাপুর, ড্রেনেরঘাট, তারাকান্দী ও দৌলতপুর এলাকার অনেক চাষিরা এ ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে সল্লাবাইদ, চকমাধবদী, দিঘাকান্দী, হাররদিয়া, খালের ঘাট, অর্জুনচর, মনোহরদী পৌর এলাকায় বর্তমানে মরিচ চাষ হচ্ছে বেশি। মরিচ চাষী আবুল হাসানাত আরও জানান, অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে অনেক বেশী লাভ হয় সবুজ মরিচ চাষে। হাররদিয়া গ্রামের মরিচ চাষি মোঃ ওমর সানী জানান, সাধারনত ভাদ্র মাসে মরিচের চারা রোপন করলে অগ্রহায়ন মাস থেকে মরিচ উঠানো শুরু করা যায়। নারান্দী গ্রামের মরিচ চাষি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানান, মরিচ বিক্রিতে আমাদের কোন থেকেই মরিচ তুলে নিয়ে যায়। এখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য এলাকার তুলনায় মনোহরদীর মরিচের গুনগত মান ভাল হওয়ায় বিভিন্ন উপজেলায় এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, আমরা মনোহরদীর কৃষকদের বিভিন্ন সময় মরিচের প্রদর্শনী দিয়ে থাকি, এবং থাকব। মনোহরদীর মরিচের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে অতএব আমরা এ মরিচের সুনাম ধরে রাখার জন্য আমরা কৃষি বিভাগ সব সময় সচেষ্ট আছি এবং থাকব। এসব কথা শুনে এবারই অনেক চাষিরা উৎসাহিত হয়ে আগামীতে মরিচ চাষ করার কথা জানিয়েছেন।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com