মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় তাণ্ডবের ৩৯ মামলা আট বছর সাক্ষীতেই আটকা

বগুড়ায় তাণ্ডবের ৩৯ মামলা আট বছর সাক্ষীতেই আটকা

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে বগুড়ায় চালানো তাণ্ডবের আট বছর পেরিয়ে গেছে গত ৩ মার্চ। এ ঘটনায় দায়ের করা ৩৯ মামলা এখনো সাক্ষ্যগ্রহণেই আটকে আছে। মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ২ হাজার ২৯৭ জন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৮৭ জন। বর্তমানে সবাই জামিন পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অবশিষ্টরা পলাতক।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, এ ঘটনায় ৪৫ মামলা বিচারাধীন। ৩৯টি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। আট বছর ধরে মামলাগুলো চলছে। এই মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল মতিন জানান, চলতি বছরের মধ্যে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হতে পারে। মামলাগুলো বর্তমানে সাক্ষী পর্যায়ে আছে।

২০১৩ সালের ৩ মার্চ সিাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে জেলায় সর্বত্র তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। আগুন দেওয়া হয় সরকারি অফিস, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি, আওয়ামী লীগ অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে। রেহাই পায়নি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

ওইদিন জামায়ত-শিবিরকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম মমতাজ উদ্দিন ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের শহরের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্মরণকালের ভয়াবহ সেই তাণ্ডবে জড়িত জামায়াত-শিবিরের দুই হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করে ১০৪টি মামলা করা হয়। তবে ৩ মার্চ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ৩৯টি মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

সুশীল সমাজের জেলা প্রতিনিধিরা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়া যত দেরি হবে আগামীতে নাশকতামূলক তৎপরতাও তত বাড়বে। আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের সেই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের আট বছর অতিবাহিত হলেও মূল হোতাদের বেশিরভাগ আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পিপি আবদুল মতিন জানান, ১০৪ মামলার আসামি কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে সব নথি পর্যালোচনা না করে বলা যাবে না। তবে প্রায় সব আসামি জামিনে আছে।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান মতে, বগুড়ায় ৩ মার্চের ভয়াবহ তা-ব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিন নারীসহ অন্তত ১২ জন। পুলিশ সদস্যসহ আহত হন কয়েকশ মানুষ। ধ্বংস হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ। সেদিন জামায়াত-শিবির বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেরসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ছয়টি থানা এবং নন্দীগ্রামের ১৭টি সরকারি অফিস পুড়িয়ে দেয়। শুধু শহরেই নয়, তা-ব চালানো হয় জেলার শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া, শেরপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান ও মোকামতলা বন্দরেও।

বগুড়া জেলা জজ আদালতের সরকারপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন আরও জানান, ৩ মার্চের তা-বের মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। অন্য মামলাগুলোর অভিযোগ গঠন হয়েছে, সেগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণও অচিরেই শুরু হবে। অনেক আসামিই এখনো গ্রেপ্তার হননি। আর যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাদের বেশিরভাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পুলিশের অভিযোগপত্রে যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ গেজেট প্রকাশের বিষয়টি এখন অপেক্ষমাণ।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা গুজব ছড়িয়ে সেদিন এই তা-বলীলা চালিয়েছিল। তবে পুলিশ সাহসিকতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং পরে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে সক্ষম হয়।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com