সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

রূপগঞ্জে ৪২ গ্রামের ১০ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ॥ দুই দালালের পকেটে ৩০ কোটি টাকা

রূপগঞ্জে ৪২ গ্রামের ১০ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ॥ দুই দালালের পকেটে ৩০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপগঞ্জ থেকে : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় প্রতিটি সংযোগ দিতে নেয়া হয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রসহ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪২ গ্রামে দেয়া হয়েছে অন্তত ১০ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ। খোদ নাওড়া গ্রাম থেকে গ্যাস দেওয়ার জন্য ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার এমনকি জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা দিয়েছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্যাস দালাল আর তাদের নিয়োজিত গ্যাস কমিটিকে। তখন কথা ছিল কাগজপত্র ঠিক করে দিবেন তারা। অবৈধ সংযোগ দিয়ে ফুঁলে-ফেপে উঠেছে দালাল জাহেদ আলী আর বজলু। এ খাত থেকে অন্তত ৩০ কোটি টাকা ঢুকেছে তাদের পকেটে। এদিকে সোমবার বিকেলে ঐসব এলাকার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রশাসন। এতে চনপাড়া পূর্নবাসনসহ কায়েতপাড়ার ৪২ গ্রামের ১০ হাজার পরিবারে গ্যাসের জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রে গ্যাস নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদ আলী ও বজলুর রহমানের ‘শাসন’ কায়েম হয়েছে। এই রাজত্ব চালানোর জন্য তারা ‘গ্যাস কমিটি’ করেছিলো এবং এর মাধ্যমে তারা দিব্যি তাদের শাসন চালিয়েছিলেন। গ্যাস-সংযোগের জন্য কমিটি ফি নির্ধারণ করেছিলো নিজেদের মতো করে। এ ধরনের ১০ হাজার সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যা থেকে জাহেদ আলী ও বজলুর পকেটে ঢুকেছে অন্তত ৩০ কোটি টাকা। এখন এটা মনে হওয়াই তো স্বাভাবিক যে সরকার সম্ভবত গ্যাস ব্যবস্থাপনার জন্য এই অঞ্চলটি জাহেদ আলী-বজলুর কাছে ‘ইজারা’ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, গ্যাস দেওয়ার কথা বলে ২০১২ সালে জাহেদ আলী ও বজলুর রহমান বজলু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্যাসের সুফল পেতে ঐ সময় মানুষ পালের গরু-ছাগল, হাস-মুরগী, স্বর্নালংকার এমনকি গাছপালা জমিজমা বিক্রি করে গ্যাস কমিটির প্রধান জাহেদ আলী ও বজলুকে টাকা দেয়। চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের এক মুদী দোকানী জানান, বজলু মেম্বারকে গ্যাস সংযোগ নেয়ার সময় ২৫ হাজার টাকা কিস্তিতে তুলে এনে দিয়েছেন তিনি। সেসময় কথা ছিল কাগজপত্র ঠিক করে দিবে। কিছুদিন আগে বজলুর লোকেরা এসে হুমকি দেয় তাদের মিছিল মিটিংয়ে না গেলে সংযোগ কেটে দিবে। এর বাস্তবায়ন ঘটেছে এখন। ভাওয়ালিয়া পাড়া এলাকার গৃহিণী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাই স্বর্ণের চেইন আর গরু বিক্রি করে জাহেদ আলীকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলার গ্যাসের সংযোগের জন্য। গ্যাস লাই বৈধ হবার তো দূরের কথা সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।
কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও চনপাড়া পূর্নবাসনের সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,জাহেদ আলী আর বজলুর বিভিন্ন সভায় লোকসমাগম কম হওয়ার খেসারত পেলো সাধারণ জনগণ। বেশ কয়েকদিন আগে জাহেদ আলী ও বজলুর সাঙ্গপাঙ্গরাবাড়ি বাড়ি ঢুকে হুমকি দেয়, তাদের জনসভায় না গেলে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। ঘটনা তা-ই ঘটলো।
কায়েতপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, নাওড়া এলাকায় বৈধ গ্যাসের সংযোগ দেয়ার কথা বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা লাখ নিয়ে গেছে জাহেদ আলী।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাহেদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা মানুষকে বিনা পয়সায় গ্যান দিয়েছি। কারো কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়েছি এমন কিছু আমার মনে পড়ছেনা। আর অপর অভিযুক্ত বজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, সারা দেশে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কায়েতপাড়া ইউনিয়নের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। পুরো উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com