সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

মানব সভ্যতায় কলঙ্কিত দিন

মানব সভ্যতায় কলঙ্কিত দিন

‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’- টিক্কা খানের এই বক্তব্যের বাস্তব দৃশ্যের দেখা মেলে ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে। ওইদিন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে হত্যা চালিয়ে হানাদার বাহিনী মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন রচনা করে। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে গণহত্যা চালিয়ে বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার নারকীয় এক পরিকল্পনা হাতে নেয় তারা। ফলে পূর্ব বাংলার মানুষের জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় কালরাত্রি।

বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে রক্তের স্রোতে ভাসিয়ে দিতে তারা হত্যার মহোৎসবে মেতে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একদিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে, অন্যদিকে মুক্তির পথে অদম্যগতিতে চলতে থাকে দৃঢ়প্রত্যয়ী বাঙালি মুক্তিসেনারা। অতঃপর নয় মাস যুদ্ধ শেষে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত মহান স্বাধীনতা। প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

১৯৭৫ সালের পর রাজনীতির চাকা উল্টো দিকে মোড় নিলে আলোচনার আড়ালে চলে যায় মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির আত্মত্যাগের অনেক তথ্য। মুছে যায় বাঙালির জাতির জনকের নামও। অনেক চড়াই-উতরাই শেষে ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনাকে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ মহান জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করে।

এ বছর ২৫ মার্চ এমন একটা সময়ে সমাগত, যখন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ উদ্যাপিত হচ্ছে। এ উৎসবের প্রাক্কালে বাঙালি জাতি ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে নিহত সব শহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে।

এক মিনিট ব্ল্যাক-আউটে থাকবে দেশ : কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা স্মরণে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই বা জরুরি স্থাপনাগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এটি বাস্তবায়ন করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

 

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com