সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

অনলাইন বান্ধবীকে সোয়া কোটি টাকা ধার, না পেয়ে প্রবাসীর আত্মহত্যা

অনলাইন বান্ধবীকে সোয়া কোটি টাকা ধার, না পেয়ে প্রবাসীর আত্মহত্যা

শেয়ারিং অ্যাপ লাইকিতে পরিচয়। একটা সময় গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সুবাদে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ধার দেন মোজাম্বিক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক মিজানুর রহমান নীল (২৪)। সেই টাকা আদায় করতে না পেরে অবশেষে লাইকিতে লাইভে এসে তিনি আত্মহত্যা করেন।

গত ১০ মার্চ বেলা ১১টায় দেশটির তেতে প্রদেশে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর। তিনি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব কাহারঘোনার হাজি সিদ্দীক আহাম্মেদের ছেলে।

মিজানুরের বড় ভাই প্রবাসী মো. ওমর কাজী বলেন, ‘লাইকি সূত্রে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকার কলেজছাত্রী ফৌজিয়া আনোয়ারের (২২) সঙ্গে মিজানুরের সম্পর্ক হয়। এরপর পতেঙ্গার পার্লার ব্যবসায়ী ঐশী মির্জার (২১) সঙ্গেও অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় ফৌজিয়া ও ঐশীকে টাকা ধার দেয় মিজান। ফেরত চাইলে তাদের সম্পর্কে ভাটা পড়ে। এ ঘটনায় ঐশীকে লাইকিতে লাইভে রেখে কীটনাশক (ইঁদুর মারার বিষ) খায় মিজান। হাসপাতালে নেয়ার ১০ মিনিটির মাথায় তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চার ভাই মোজাম্বিকের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করি। ২০১৪ সালে আমাদের সবার ছোট ভাই মিজানকে এখানে নিয়ে আসি। এরপর থেকে ব্যবসার হিসাবসহ টাকা-পয়সা তার কাছে ছিল। আমরা সবাই খুব আদর করতাম তাকে। আমাদের ধারণা ছিল না সে এমন একটা কাজ করবে। টাকা গেছে সেটা বিষয় নয়। আত্মহত্যা করাটা ঠিক হয়নি।’

ওমর কাজী বলেন, ‘কত টাকা লেনদেন হয়েছে কিংবা কোন মাধ্যমে গেছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোজাম্বিক পুলিশের সহযোগিতা নেয়া হবে। আমরা প্রাথমিক হিসাবে ধারণা করছি, প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মিজানুরের হিসাবে গরমিল পাচ্ছি। মূল প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে বাংলাদেশ ও মোজাম্বিক থেকে পুলিশ কাজ করছে। মিজানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঐশী মির্জার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ ধরেননি।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com