রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

হরতালকে ঘিরে সরকারের কঠোর অবস্থান, নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

হরতালকে ঘিরে সরকারের কঠোর অবস্থান, নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সংঘর্ষে নিহতের ঘটনার জেরে রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম।

তবে হরতালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ-র্যা বের পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে বলা হয়।

এই হরতাল কেন্দ্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত সদস্যদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নির্দেশনায় চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ওপর হামলার আশঙ্কায় ডিএমপিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানেও থাকতে বলা হয়।

সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পুলিশ ও র্যা ব সদর দপ্তরে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশের জানমাল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা এই হরতালের নামে বিক্ষোভ, মিছিল সমাবেশের নামে নাশকতার চেষ্টা করবে, জ্বালাও-পোড়াও করবে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। কেউ যদি যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করে, থানায় হামলা বা আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে র্যাকব সদর দপ্তর সব ব্যাটালিয়নকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি র্যাাব সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। কেউ হরতালের নামে সহিংসতা করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

এদিকে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে আনুষ্ঠানিক সমর্থন না জানালেও বিষয়টিকে যৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি।

অন্যদিকে হেফাজত হরতালের নামে যাতে কোনো নাশকতা ও সহিংসতা চালাতে না পারে, সে জন্য মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এ ছাড়া হরতালে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে হাটহাজারীসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীদের হতাহতের ঘটনায় শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং রোববার হরতাল ডাকে হেফাজতে ইসলাম।

এর পর শুক্রবার ডিএমপি কন্ট্রোলরুম থেকে রাজধানীতে কর্মরত আটটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও সহকারী পুলিশ কমিশনারদের (এসি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, ডিএমপির থানাগুলোয় পুলিশ ফাঁড়ি ও পুলিশ বক্সে যে কোনো সময় হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। ডিএমপি ছাড়াও এ সতর্কতা দেওয়া হয় সারা দেশের থানাগুলোতেও।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com