সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

খুনিদের ফাঁসি কার্যকর দেখে মরতে চান অসুস্থ মা

খুনিদের ফাঁসি কার্যকর দেখে মরতে চান অসুস্থ মা

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার দুবছর আজ শনিবার। আলোচিত এ হত্যাকা-ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল দেশবাসী, যে খবর স্থান পেয়েছে বিশ্ব মিডিয়ায়। দেখতে দেখতে হত্যাকা-ের দুবছর হয়ে গেলেও পরিবারে কাটেনি শোকের আবহ। একমাত্র

কন্যাসন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা শিরিনা আক্তার। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে দেখা নানা অসুখ। ভুগছেন কিডনি ও হার্টের সমস্যায়। ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কয়েক দিন আগে।

হত্যাকাণ্ডের দুবছর বিচার নিয়ে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি জানতে চাইলে অশ্রুসজল চোখে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার আমাদের সময়কে বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেল আমার কলিজার ধন একমাত্র মেয়ে নির্মম হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে। মেয়ের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। ভয় হয় কখন মরে যাই। সরকারের কাছে দাবি- খুনিদের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করুন। মৃত্যুর আগে যেন ঘাতকদের বিচার কার্যকর হয়েছে দেখে যেতে পারি।’ তিনি এ পর্যন্ত মামলার যে অগ্রগতি তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংবাদিকদের যে সহযোগিতা পেয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবং শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

নুসরাত হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহ জাহান বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদ-াদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে শুনানি শুরু হতে দেরি হওয়ায় ওই বেঞ্চ বাতিল হয়ে গেছে।’ তিনি আশা করছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বেঞ্চ গঠন করে মামলার শুনানি শুরু হবে।

এদিকে নুসরাত হত্যাকা-ের দুবছর পূর্ণ হলেও কবর সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ঘোষিত কবর পাকাকরণ, নুসরাতের নামে ভবন ও রাস্তা নির্মাণেরও কোনো অগ্রগতি নেই। এ কারণে হতাশা ব্যক্ত করেছে নুসরাতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, বিচার কার্যক্রমে তারা সন্তুষ্ট। বিচারাধীন বিষয়ে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়ে তাদের পুলিশ পাহারায় নিরাপত্তা দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এ ছাড়া মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাড়িতে কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানকে মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মামলার রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদ- দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদ- করা হয়। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানালেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

২০১৯ সালে ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন বোরকা পরা পাঁচজন। ৮ এপ্রিল তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com