সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৭ অপরাহ্ন

অ্যান্টিবায়োটিকের সুষ্ঠু ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

অ্যান্টিবায়োটিকের সুষ্ঠু ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় জীবাণুর ‘ওষুধ প্রতিরোধী’ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পাঁচটি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘হাই লেভেল ইন্টারেকটিভ ডায়লগ অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স (এএমআর)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এএমআর বিষয়ক ২০১৫ সালের বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা, ২০১৬ সালে এএমআর বিষয়ক জাতিসংঘের রাজনৈতিক ঘোষণা এবং এএমআর সমস্যা মোকাবেলার জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।’ এএমআর নিয়ে গঠিত গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের অংশগ্রহণে এ সংলাপের আহ্বান করেন জাতিসংঘের জেনারেলঅ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট। এতে কো-চেয়ার হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স মোকাবেলায় পাঁচটি পদক্ষেপের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। সেগুলো হলো-

১. বিভিন্ন খাতের সমন্বয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, যেখানে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সম্মিলিত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. ভালো উৎপাদন, পরীক্ষাগার এবং নজরদারি কাঠামো প্রণয়ন।

৩. প্রয়োজনে প্রযুক্তি বিনিময় এবং মালিকানা ভাগাভাগির মাধ্যমে সাশ্রয়ী এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

৪. এএমআর নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়ন এবং

৫. সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এএমআর মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা তৈরি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. উম্মে নাজমিন ইসলাম জানান, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বলতে মূলত অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সকে বোঝানো হয়। মাত্রাতিরিক্ত বা নিয়ম না মেনে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে, শরীরে জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। ফলে পরে শরীরে ওই অ্যান্টিবায়োটিক আর কার্যকর হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে (এএমআর) বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভয়াবহ হুমকি হিসেবে এরই মধ্যে চিহ্নিত করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে এএমআর বিষয়ক এ বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব এখন কোভিড-১৯ মহামারীর ধ্বংসাত্মক রূপ দেখছে। ভবিষ্যতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স সমস্যাও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এই বিপদ সময়মতো মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে মানবজীবন, প্রাণী এবং উদ্ভিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটবে। ডব্লিউএইচওর ধারণা মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে এএমআরের কারণে ১০ মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা খাদ্য সুরক্ষা, এসডিজি ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যের অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবে।’

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com