সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

ঢাকার বাতাস ফের ‘অস্বাস্থ্যকর’

ঢাকার বাতাস ফের ‘অস্বাস্থ্যকর’

বায়ু দূষণের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক পুরনো। করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে বিশ্বের অন্যতম দূষিত বাতাসের শহর ঢাকার বায়ুমানে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছিল। সপ্তাহ ঘুরতেই ঢিলেঢালা হয়ে এসেছে বিধিনিষেধ। গাড়ির চাকা ঘোরার পাশাপাশি খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসছে ঢাকার পুরনো চেহারা। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ঢাকার বাতাস ফের ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আট টায় জনবহুল এই শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) স্কোর ছিল ১৭৮, যাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দ্বিতীয়। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সূচক অনুসারে, দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ভারতের দিল্লি ১৯২ স্কোর নিয়ে প্রথম এবং আরব আমিরাতের দুবাই ১৬৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুম-লীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, লকডাউনে আগের তুলনায় বায়ুদূষণ কমেছে। লকডাউন কোনো সমাধান না। এটার প্রভাব ক্ষণস্থায়ী। লকডাউনের সময়ে রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ থাকা, যানবাহন বন্ধ থাকায় রাস্তার ধুলো ওড়া কমে যাওয়া, বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ থাকার কারণে তুলনামূলকভাবে নির্মল বায়ু পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, গত বছরও আমরা দেখেছি, মার্চ-এপ্রিলে বায়ুদূষণ কমেছিল, জুন-জুলাইয়ে আবার বাড়তে শুরু করে। আগস্টে তা আগের অবস্থায় চলে যায়। গত বছর অক্টোবরে সেটা ২০১৯ সালের তুলনায় ১০ থেকে ১৬ শতাংশ বেড়ে যায়। এবারও লকডাউনে শিথিলতা আসার পর বায়ুদূষণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে তিনি।

কল-কারখানা, যানবাহন, নির্মাণকাজ পুরোদমে চালু হলে আবার যে বায়ুদূষণ বাড়বে সেটি মনে করিয়ে অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, পুরনো গাড়িগুলো বায়ুদূষণের বড় উৎস। এসব গাড়ি বাদ দিয়ে পাবলিক বাসকে আমরা বাড়াতে বলছি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি কমিশন গঠনের কথা বলছি। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত রাজধানীর একটি ঢাকা। এমন একটি দেশের নাগরিকদের নির্মল বাতাস দেওয়ার জন্য একটি কমিশন যৌক্তিক দাবি। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনাগুলো মেনে চললে বায়ুদূষণ কমানো যেতে পারে। রাস্তায় পানি দেওয়া, নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে বহন করা- এগুলো মানতে হবে।

বাতাসের মান নির্ভর করে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম-১০) এবং অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণের (পিএম ২.৫) ওপর, যা পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম) এককে। পিএম ২.৫, পিএম ১০ ছাড়াও সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও গ্রাউন্ড লেভেল ওজোনে সৃষ্ট বায়ুদূষণ বিবেচনা করে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই তৈরি হয়। একিউআই নম্বর যত বাড়তে থাকে, বায়ুমান তত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়। একিউআই শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে সেই এলাকার বাতাসকে ভালো বলা যায়। ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাসের মান মডারেট বা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। একিউআই ১০১ থেকে ১৫০ হলে সেই বাতাস স্পর্শকাতর শ্রেণির মানুষের (শিশু, বৃদ্ধ, শ্বাসকষ্টের রোগী) জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয়। আর একিউআই ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ ছাড়িয়ে গেলে সেই বাতাসকে বিপজ্জনক ধরা হয়।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com