মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শাক্তা ইউনিয়নে হাজী হাবিবুর রহমান হাবিবের ঈদ উপহার পেয়ে আনন্দিত ৯টি ওয়ার্ডের কর্মহীন মানুষ ২ জুন অধিবেশন শুরু, বাজেট উপস্থাপন ৩ জুন এবারও ঈদুল ফিতরে বায়তুল মোকাররমে ৫ জামাত রূপগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকরা পেল বসুন্ধরা ও রংধনু গ্রুপের ঈদ উপহার সামগ্রী শ্রমিকদের দাবির মুখে ছুটি বাড়াচ্ছেন গার্মেন্টস মালিকরা গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ২০ করোনায় বিপর্যস্ত ভারত : মোদিকে সহমর্মিতা জানিয়ে শেখ হাসিনার চিঠি স্বাভাবিক করে দেয়া হলো বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ফেরি চলাচল রূপগঞ্জের কর্মহীন কোন মানুষ অনাহারে থাকবে না – রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম ইসহাক ভূইয়াঁ ফাউন্ডেশন ও জালালপুর ইকো রিসোর্ট এর রামাদান উপলক্ষে মাসব্যাপী আয়োজন
বিদ্যুৎ ছাড়াই অক্সিজেনের চাহিদা মেটাবে অক্সিজেট

বিদ্যুৎ ছাড়াই অক্সিজেনের চাহিদা মেটাবে অক্সিজেট

বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে স্বল্পমূল্যে করোনা রোগীদের হাইফ্লো অক্সিজেন নিশ্চিত করতে উদ্ভাবন করা হয়েছে ‘অক্সিজেট’ নামের একটি ডিভাইস। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল গবেষক এ ডিভাইস তৈরি করেন।

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই বেড়েছে অক্সিজেন ও আইসিইউর চাহিদা। তবে বিদ্যুতের সমস্যা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক সময় রোগীর জন্য হাইফ্লো অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই স্বল্পমূল্যে অক্সিজেন এবং উচ্চগতির ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করতে দীর্ঘ ১০ মাসের গবেষণার পর ‘অক্সিজেট’ নামে একটি ডিভাইস তৈরি করেছে বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একদল গবেষক, যা করোনাসহ অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেহে অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করবে।

গবেষকরা হলেন- বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষণা সহকারী মীমনুর রশিদ, কাওসার আহমেদ ও ফারহান মুহিব। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক কায়সার আহমেদ ও সাঈদুর রহমান। সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে রয়েছেন বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তওফিক হাসান।

মীমনুর রশিদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সব হাসপাতালেই অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে। বাড়ছে আইসিইউ সংকট ও বিদ্যুৎ সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের পাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ‘অক্সিজেট’। এই ‘অক্সিজেট’ ব্যবহারে লাগবে না বিদ্যুৎ সংযোগ। খরচ পড়বে মাত্র দুই হাজার টাকা। সিলিন্ডার কিংবা হাসপাতালের সাপ্লাই লাইন থেকেই হাইফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে। এটি হতে পারে হাইফ্লো নজেল ক্যানোলার বিকল্প।

কাওসার আহমেদ বলেন, যন্ত্রটি বাতাস থেকে প্রাকৃতিক অক্সিজেন টেনে ভেতরে এনে সংরক্ষণ করবে। সিলিন্ডারের অক্সিজেনের সঙ্গে প্রাকৃতিক অক্সিজেন একত্র করে প্রায় ৬০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করার মতো ক্ষমতা তৈরি করে। এই হাইফ্লো অক্সিজেন সিপ্যাপ মাস্কের মাধ্যমে রোগীকে দেওয়া হয়। মাস্কটি এমনভাবে তৈরি যাতে লিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। ফলে রোগী সহজে অক্সিজেনের অভাব কাটিয়ে উঠতে পারে, নিঃশ্বাস নিতে পারে বুক ভরে। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও যাত্রাপথে অ্যাম্বুলেন্সে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে। অন্যদিকে করোনা আক্রান্তদের অবস্থার অবনতি হলে উচ্চগতির অক্সিজেন প্রবাহ প্রয়োজন হয়। এ রকম যন্ত্রের মধ্যে দেশে মূলত ‘হাইফ্লো নেজাল কেনোলা’ রয়েছে, যা আইসিইউর বাইরে ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল।

বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক কায়সার আহমেদ বলেন, একটি সুক্ষ ভেঞ্চুরি ভালভের মাধ্যমে বাতাস ও অক্সিজেনের সংমিশ্রণ তৈরি করে অন্তত ৬০ লিটার/মিনিট গতিতে সরবরাহ করে। মেডিক্যাল অক্সিজেন সাপ্লাই ও দ্বৈত ফ্লো-মিটারের সাহায্যে প্রয়োজনে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অক্সিজেন কনসেন্ট্রেশন দিতে পারে। ‘অক্সিজেট’ রোগীদের সাধারণ ওয়ার্ডেই উচ্চগতির অক্সিজেন সেবা দিতে পারবে। তাই আইসিইউতে রোগী ভর্তির চাপ কমাবে।

তিনি আরও বলেন, যন্ত্রটি অক্সিজেন সিলিন্ডারে ব্যবহার করলে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন বাড়বে প্রায় ১২ শতাংশ, যা রোগীর জন্য হতে পারে অনেক স্বস্তিদায়ক। ‘অক্সিজেট’ বেশ কিছু দিন ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের ওপর এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী বলেন, করোনা যদি আরও ভয়ানক রূপ ধারণ করে, তা হলে সারাদেশে এটির প্রয়োজন পড়বে। তখন এই যন্ত্রটিই হতে পারে আশার আলো। তখন আমরা অনেক মারাত্মক রোগীকে সেবা দিতে পারব। এতে প্রাণ ফিরে পাবে অনেক রোগী। তা ছাড়া আইসিইউর সমস্যা কাটিয়ে তুলতে এই মেশিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তওফিক হাসান বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আরও ৫০টি ‘অক্সিজেট সিপ্যাপ’ তৈরি করা হচ্ছে। ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে প্রাথমিক সাফল্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) অনুমোদন সাপেক্ষে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ট্রায়ালটি আরও বড় আকারে অন্যান্য হাসপাতালে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিতরণ করা সম্ভব অন্যান্য হাসপাতালে।

 

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com