বৃহস্পতিবার, ২৯ Jul ২০২১, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ২২ হাজার খামারি পাচ্ছেন প্রণোদনা

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ২২ হাজার খামারি পাচ্ছেন প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ লাখ ২২ হাজার খামারিকে ২৮৬ কোটি টাকা প্রণোদনা দেবে সরকার। ছোট ছোট প্রান্তিক খামারিদের ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার পাশাপাশি খামার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪ জন খামারিকে প্রায় ৮৪৬ কোটি কোটি টাকার নগদ আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের সংস্থান রেখে জরুরি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ সেক্টরের ডেইরি ও পোল্ট্রি খাতে ১৫টি ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ ২০ হাজার খামারির জন্য প্রায় ৭৪৬ কোটি টাকা এবং মৎস্য সেক্টরের ৭৮ হাজার ৭৪ জন খামারির সাতটি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন হারে ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনার সংস্থান রাখা হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার খামারিকে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। এ প্রণোদনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে খামারিদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে

জানা গেছে, করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ২১ হাজার ৯৯৩ জন খামারিকে ২৮৬ কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ খাতে ২ লাখ ১৮ হাজার ১৪৮ জন খামারিকে ২৮১ কোটি ১৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এবং মৎস্য খাতে ৩ হাজার ৮৪৫ জন খামারিকে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা । রোববার (২৬ জুন) বিকেলে খামারিদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ প্রণোদনার টাকা বিতরণ করা হবে।

এর আগে প্রথম ধাপে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতিগ্রস্ত ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৬ জন খামারিকে ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ৪ লাখ ১ হাজার ৮৫২ জন খামারিকে ৪৬২ কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়। মৎস্য খাতে ৭৪ হাজার ২২৯ জন খামারিকে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের দেয়া প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে। এতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছেন তারা। ফলে করোনাকালীন দুধ-ডিম-মাংসের পর্যাপ্ত জোগান সম্ভব হয় এবং এই দুঃসময়ে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রণোদনা পাওয়ায় অনেক খামারি সঙ্কট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে খামারিদের প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রাব্বানী জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনায় লকডাউনের কারণে খামারিদের ইনপুট সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তাদের বিপণন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। এই দুই জায়গায় তারা মনোবল অনেকটা হারাতে বসে। এমন অবস্থায় সরকার তাদের পাশে দাঁড়ায়। তাদের জন্য একদিকে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে তাদের ইনপুট সরবরাহের ব্যবস্থা অটুট রাখে। অন্যদিকে নগদ আর্থিক সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়। ফলে খামারিরা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি তাদের মনোবল ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এতে উৎপাদন ব্যবস্থা অটুট রয়েছে।’

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com