রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৩ অপরাহ্ন

অনুমোদন ছাড়া কাঠামো নির্মাণ করলে দণ্ড

অনুমোদন ছাড়া কাঠামো নির্মাণ করলে দণ্ড

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে প্রায় ২২ হাজার ৪২৪ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৮৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার হাজার ৮৯৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৩ হাজার ৫৪১ কিলোমিটার জেলা সড়ক মহাসড়ক। মহাসড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সময়োপযোগী করা এবং যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহাসড়ক আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ।

প্রস্তাবিত আইনে বলা আছে, অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে বাজার, মার্কেট বা যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। কেউ যদি নির্দিষ্ট লেন ছাড়া রাস্তায় ধীরগতির গাড়ি চালনা করেন কিংবা ন্যূনতম গতি তুলতে সক্ষম নয় এমন গাড়ি চালনা করেন, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

এভাবেই মহাসড়ক আইন ২০২১-র খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল সভায় আইনটি অনুমোদন হতে পারে। আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে প্রায় শতবর্ষ পুরনো মহাসড়ক আইন ১৯২৫-র পরিবর্তে নতুন আইন মিলবে।

খসড়া আইনের একটি অধ্যায়ে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়ে বলা হয়েছে। ধীরগতির যানবাহন এবং অবৈধ কাঠামোগুলোকে মহাসড়কে দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়। এসব দুর্ঘটনায় প্রতিবছর হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে সরকারি বা বেসরকারি ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুমতি ছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারবে না। এর জন্য চার্জ দিতে হবে। মহাসড়ক উন্নয়ন বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষকে নিজ ব্যয়ে তাদের স্থাপনা স্থানান্তর করতে হবে। মহাসড়ক আইন-১৯২৫ অনুসারে, সব ‘সরকারি রাস্তা’ গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) অধীনে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। কয়েক দশক ধরেই রাস্তাগুলো সওজের অধীনে রয়েছে। ১৯২৫ সাল থেকে শুরু করে মহাসড়কের সংখ্যা এবং ব্যবহারও বেড়েছে। অপরদিকে এক্সপ্রেসওয়ে এবং নিয়ন্ত্রিত হাইওয়ে, টোল রোডের মতো অনেক উন্নয়ন সড়ক এ খাতে যুক্ত হয়েছে।

সরকার যে কোনো সড়ককে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে মহাসড়ক, নিয়ন্ত্রিত মহাসড়ক বা এক্সপ্রেসওয়ে ঘোষণা করতে পারবে। আইন অনুযায়ী, সওজ থেকে পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো সড়ক বা মহাসড়ক নিয়ন্ত্রিত হাইওয়েতে সংযুক্ত করা যাবে না। প্রয়োজনে সওজ নকশা অনুমোদন দেওয়ার পরে মোড় ইন্টারচেঞ্জ ও মার্জ লেনগুলো তৈরি করা যেতে পারে।

আইনে আরও বলা হয়েছে মহাসড়কে ক্ষতিকারক উপাদান ছড়িয়ে দেয় এমন মোটরগাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। অন্যথায় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। মহাসড়কে ফসল, খড় বা অনুরূপ উপকরণ শুকানোর জন্য রাখা হলে বা অনির্ধারিত জায়গা দিয়ে চলাচল করলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। অনুমোদন ছাড়া ঝুলন্ত বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড বা তোরণ নির্মাণ করা হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। এসব অপরাধ সংঘটিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ- প্রদান করা হবে।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com