সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে সম্পর্ক গভীরে তৎপর বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে সম্পর্ক গভীরে তৎপর বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে চলমান উষ্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে তৎপর হয়েছে বাংলাদেশ। রেমিটেন্সের উল্লেখ্যযোগ্য প্রাপ্তিস্থান, সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘ভারসাম্য’ রক্ষার নীতি নিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য। মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পর্ক যে মাত্রায় উন্নীত হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে বাংলাদেশ সে সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল ইরান সফরে গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি আজ শপথ নিতে যাচ্ছেন। তেহরান পার্লামেন্টের ওই বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ অন্তত পঞ্চাশের অধিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ৩ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরানের নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বার্তা নিয়ে গেছেন তারা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ইরানের নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের শুভলগ্নে ঢাকা থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি প্রেরণ দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের গভীরতার বহিঃপ্রকাশ। প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক সারবেন শাহরিয়ার আলম। এসব বৈঠকে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হবে।

ইরান সফর শেষে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার কাতার যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও ৩ দিনের আলোচনা হবে। আগামী বছর কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসছে। যেখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সফরকালে অধিক পরিমাণে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণ বিষয়ে এবং দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে কথা হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ওয়ার্ল্ড এক্সপোর প্রিটারেটরি মিটিংয়ে অংশ নিতে বর্তমানে দুবাই আছেন। আয়োজনের ভেন্যু নির্বাচনে চার বছর আগে দুবাইর পক্ষে ভোট না দেওয়ায় সম্পর্কের টানপড়েন পড়েছিল বাংলাদেশে। দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভিসাও বন্ধ ছিল অনেকদনি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সেই বাধা নিরসন হলেও দেশটিতে অবাধে কর্মী প্রেরণের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। সম্পর্কের স্বাভাবিকতা এলেও উষ্ণ হয়নি এখনো।

তাছাড়া বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে আমিরাতের যুবরাজ জায়েদ আল নাহিয়ানের। বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দর উন্নয়নে ১.১ বিলিয়ন বিনিয়োগের প্রস্তাব ঝুলে আছে বহু বছর ধরে। অভিন্ন খাতে সৌদি যুবরাজেরও প্রস্তাব থাকায় এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র সচিবের এবারের আমিরাত সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com