রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

৬ বছর পর স্বামী জানলেন দেহ ব্যবসায় কোটিপতি স্ত্রী

৬ বছর পর স্বামী জানলেন দেহ ব্যবসায় কোটিপতি স্ত্রী

জেফ বেজোস-ম্যাকেঞ্জি স্কট, বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস, ব্র্যাড পিট-অ্যাঞ্জেলিনা জোলির পর কোটিপতি চিকিৎসক হান জো কিম এবং তার ‘বিউটি কুইন’ স্ত্রী রেজিনা টার্নারের হাই প্রোফাইল বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েই বর্তমানে উত্তাল আমেরিকা। তবে খোরপোষ বা সন্তানের উপর অধিকার নিয়ে টানাপড়েন নয়, তাদের দাম্পত্যের ছল-চাতুরির কাহিনি জানতেই উদগ্রীব আমেরিকাবাসী। একসঙ্গে সংসার করেছেন প্রায় ৬ বছর, ছিল না কোন দাম্পত্য কলহ বা মনমালিন্যের ঘটনা। তবে কেন এই বিচ্ছেদ, এমন প্রশ্ন উঠেছে অভিজাত মহলে।

রেজিনা টার্নার একধারে মারকাটারি সুন্দরী, তার উপর ক্ষুরধার বুদ্ধি। প্রথম সাক্ষাতেই তাই মন দেওয়া নেওয়া হয়ে গিয়েছিল হান জো কিমের সঙ্গে। গাঁটছড়া বাঁধতেও সময় নেননি। কিন্তু সংসারের বৃত্তের বাইরে আলো আঁধারি জগতে যে স্ত্রীর আনাগোনা, সাড়ে পাঁচ বছর সংসার করেও টের পাননি স্বামী। টেরে পেতেই ‘ছলনাময়ী’ স্ত্রীকে আদালতে নিয়ে গেলেন তিনি।

চিকিৎসক হিসেবে আমেরিকার অভিজাত মহলে বেশ নামডাক রয়েছে হান জো কিমের। ২০১৫ সালে মিস কানেটিকাট সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়িনী রেজিনা টার্নারকে বিয়ে করেন তিনি। ম্যানহাটনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে সংসার পেতেছিলেন দুজনে। বেশ সুখেই কাটছিল তাদের সংসার, একসঙ্গে কাটিয়েছেন ৬ বছর। কিন্তু জুলাই মাসে আচমকাই তাদের বিচ্ছেদে আইনি সিলমোহর পড়ে যায়।

বিবাহিত থাকাকালীন ৪১ বছরের হান এবং ৩২ বছরের রেজিনার মধ্যে মনোমালিন্যের কোনও খবর মেলেনি। তাই তাদের বিচ্ছেদের খবরে তাজ্জব হয়ে যান সকলে। কিন্তু আইনি জটিলতা মিটে যাওয়ার পর বিচ্ছেদের যে কারণ সামনে এসেছে, তাতে হইচই পড়ে গিয়েছে।

আদালতে হান জানিয়েছেন, বিয়ের আগে থেকেই দেহ ব্যবসা করতেন রেজিনা, যা বিয়ের পরেও তা চালিয়ে যান। এমনকি শুধুমাত্র দেহ ব্যবসা করেই রেজিনা ৫ কোটি টাকার বেশি উপার্জন করেছেন বলেও জানিয়েছেন হান।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে স্ত্রীকে ছলনাময়ী এবং জালিয়াত বলে উল্লেখ করেছেন হান। তার অভিযোগ, নিজের জীবন নিয়ে আগাগোডা় মিথ্যা বলে এসেছেন রেজিনা। কানেটিকাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বলে তাকে জানিয়েছিলেন রেজিনা। কিন্তু আসলে হাইস্কুলের গন্ডিও পার হতে পারেননি তিনি।

শুধু তাই নয়, হানের দাবি, জামাকাপড়ের একটি অ্যাপ নিয়ে কাজ করতে প্রায়ই চীন যেতেন রেজিনা। অন্তত এক সপ্তাহ করে থাকতেন। কিন্তু কাজ নয়, আসলে রেজিনা সেখানেও দেহ ব্যবসা চালাতেন বলে দাবি করেন হান। আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র টুইটারে রেজিনাকে ফলো করেন।

হান জানিয়েছেন, অন্য পুরুষের সঙ্গে ফোনে স্ত্রীর কিছু মেসেজ দেখে প্রথমে সন্দেহ হয় তার। তাতে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা করতে দেখেন দুজনকে। স্ত্রীর গ্রাহকের তালিকায় নিউইয়র্কের ধনী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, নামী আলোকসজ্জা শিল্পীরা ছিলেন বলেও জানিয়েছেন হান। তার দাবি, বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে রেজিনার অ্যাকাউন্টে প্রায়শই ২ হাজার ডলারের (প্রায় দেড় লাখ টাকা) চেক জমা পড়ত।

শুধুমাত্র রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই রেজিনা ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রোজগার করেন বলে দাবি করেন হান। যদিও বিচ্ছেদের মামলার শুরুতে রেজিনার দাবি ছিল, তার কোন রোজগার নেই। স্বামীর উপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল তিনি। তাই বিচ্ছেদ বাবদ মোটা টাকার খোরপোষ প্রাপ্য তার।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০১৮ সালেই মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করে প্রায় ৩২ লাখ ডলার রোজগার করেন কিম, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৩ কোটি টাকা। আমেরিকার অন্যতম প্রসিদ্ধ এবং ধনী চিকিৎসক তিনি।

কিন্তু হান কীভাবে রেজিনার ফাঁদে পা দিলেন, তা এখনও বোধগম্য হচ্ছে না অনেকেরই। যদিও হানের ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, রেজিনা অত্যন্ত সুন্দরী। বহু কোটিপতিই ওকে বিয়ে করার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। তাদের নজর থেকে কার্যত ছোঁ মেরে রেজিনাকে জিতে নেওয়াই লক্ষ্য ছিল হানের। তাই রেজিনার অতীত খুঁটিয়ে জানার তাগিদই অনুভব করেননি তিনি।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com