বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালির হৃদয়ে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন অনন্তকাল : হাজী হাবিবুর রহমান হাবিব

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালির হৃদয়ে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন অনন্তকাল : হাজী হাবিবুর রহমান হাবিব

বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য এবং আসন্ন শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী,বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী হাজী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন,আগস্ট মাস আমাদের জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। পৃথিবীর কোনো জাতির ইতিহাসে আমাদের মতো শোকাবহ আগস্ট আছে কিনা জানা নেই। আমাদের জাতীয় জীবনে আগস্ট দুর্বিষহ, গভীরতম শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালির প্রিয় নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীসহ পরিবারের প্রায় সকলকেই ঘাতক চক্র নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালির হৃদয়ে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন অনন্তকাল। মঙ্গলবার জাতীয় দৈনিক সময়ের ধারার এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,কতখানি বর্বর ও নৃশংস হলে শিশু রাসেলকেও তারা বাঁচতে দেয়নি। আমি বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের অকাল প্রয়াণের নিন্দা জানাই এবং ঘৃণা জানাই। একই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধায় অবনতচিত্তে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সবাইকে স্মরণ করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন,আগস্ট মানে বাঙালির শোকের মাস, বেদনার মাস। বছর ঘুরে আবার এসেছে বাঙালি জাতির ইতিহাসে রক্তের আখরে লেখা শোকাবহ আগস্ট।
শোকের মাসে প্রত্যয় ও শপথে শোককে শক্তিতে পরিণত করার অভয়মন্ত্রে আবার উদ্দীপিত হবে বাঙালি। বীর বাঙালির ইতিহাসে কলঙ্কিত এক অধ্যায় সূচিত হয়েছে এ মাসেই। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙ্গালি জাতি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
তিনি বলেন,পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। এমনকি পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিণী আরজু মনি, কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ সদস্য ও আত্মীয়স্বজন।
তিনি বলেন,সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা দেশে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। সেদিন ছিল ১৫ আগস্ট। মাসটি এলেই তাই মনে পড়ে যায়, সেই ভয়াবহ স্মৃতি, যা আমাদের বেদনায় সৃষ্টি করে নতুন করে যন্ত্রণার। যে বিশাল হৃদয়ের মানুষকে কারাগারে বন্দি রেখেও স্পর্শ করার সাহস দেখাতে পারেনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, অথচ স্বাধীন বাংলার মাটিতেই তাকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে।
হাজী হাবিবুর রহমান হাবিব আরও বলেন,বঙ্গবন্ধু হত্যার সেই ষড়যন্ত্রের নীলনকশা আজও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। জাতির পিতাকে হারানোর সেই দুঃসহ স্মৃতি দীর্ঘ কয়েক যুগ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সারা বাংলার ১৮ কোটি মানুষের প্রাণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রক্তের ভেতরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি শেখ হাসিনার। রাজনীতিতে নামার অভিপ্রায় তাঁর ছিল না। পিতা জাতির মুক্তিদাতা। স্বাধীনতার স্থপতি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তাঁর কন্যা। এ পরিচয়ই তো অনেক বড়। এ পরিচয়েই তারা পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। শোকের সাগর মাড়িয়ে তাকেই কিনা হাল ধরতে হলো ইতিহাসের এক যুগ সন্ধিক্ষণের। আগস্ট মাস এলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এক দুঃসহ স্মৃতির গহিনে চলে যান। তিনি বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেদিন প্রাণে বেঁচে যান। কারণ তারা দেশে ছিলেন না। মহান আল্লাহ পাকের অপার করুণা তাদের বাঁচিয়ে দিয়েছিল বিধায় দেশ পরিচালনায় আজ গর্বের সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই জীবনের সার্থকতা ভোগে নয়, ত্যাগে। আমাদের সকলকেই একদিন চলে যেতে হবে, চিরবিদায় নিতে হবে সকল মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে। তবে সেই মৃত্যু যেন হয় শহীদের, সেই মৃত্যু যেন হয় মানবতার জয়গানে, মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকা এক প্রাণের। হাজী হাবিবুর রহমান হাবিব আরও বলেন,মরণের পরেও যেন মানুষ দোয়া করে, শুকরিয়া আদায় করে এমন কাজ বেশি বেশি করতে পারাটাই হলো সফল জীবন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবন নিঃসন্দেহে সার্থক জীবন। সে কারণেই কবি অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছেন, যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা, গৌরী যমুনা বহমান। ততদিন রবে কীর্তি তোমার, শেখ মুজিবুর রহমান। দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা, রক্ত গঙ্গা বহমান-নাই নাই ভয় হবে হবে জয়, জয় মুজিবুর রহমান। এ বছরটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বছর। এটি ‘মুজিববর্ষ’। সবশেষে হাজী হাবিবুর রহমান হাবিব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার যেন এই শোকের মাসে শোক সইতে পারেন সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com