বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

অবসরপ্রাপ্ত সচিবের ৮ কোটি টাকার টেন্ডারে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

অবসরপ্রাপ্ত সচিবের ৮ কোটি টাকার টেন্ডারে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

সময়ের ধারা ডেস্ক: ২০১৭ সালের ২৯ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে যোগ দিয়েছিলেন জামাল উদ্দিন। তখন তিনি সরকারের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। পরে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে গত বছরের ২০ জুলাই অবসরে যান। এখন তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ইজারায় দরপত্রে অংশ নিয়েছেন। তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘৭ এলেভেন ঢাকা লিমিটেড’। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

যে কোনো দরপত্র চূড়ান্ত করার আগে মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার ওই কমিটির সভা রয়েছে। এই সভায় সিদ্ধান্ত হবে, সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে আড়াই কোটি টাকা কমে ইজারা দেওয়া হবে কি-না। এখানে কারও প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। অভিযোগ রয়েছে, সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে আড়াই কোটি টাকা কমে শিডিউল জমা দিয়েছে ‘৭ এলেভেন ঢাকা লিমিটেড’। এখন প্রভাব খাটিয়ে এবং ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ করে এই কাজ নিতে চেষ্টা করছেন জামাল উদ্দিন আহম্মেদ। মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) এই টার্মিনাল ইজারায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে কমে ইজারা দেয়ার বিধান নেই। কমে ইজারা দিতে হলে আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। ফের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে। অন্যথায় তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। এছাড়া এই দরপত্রের শিডিউল বিক্রি নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ বরাবর আবেদন করেছেন ‘এইচ এইচ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মনির হোসেন। এখন পর্যন্ত সেই আবেদনেরও সুরাহা হয়নি।

ডিএসসিসির পরিবহন বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৪ জুন সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের টার্মিনাল ফি, টয়লেট, শৌচাগার ব্যবহার (চারটি), গাড়ি ধোয়া ফি ও কুলি-মজুরি আদায় কাজের ইজারাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করে ডিএসসিসি। এক বছরের জন্য এ কাজে আট কোটি টাকা দর চাওয়া হয়। গত ১৮ জুলাই দরপত্রের শিডিউল সংগ্রহের শেষ দিন ছিল। এই সময় পর্যন্ত মাত্র দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল কিনতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ৩৬ লাখ টাকা দিয়ে প্রথম দরদাতা হয়েছে জামাল উদ্দিনের ‘৭ এলেভেন ঢাকা লিমিটেড’। আর তিন কোটি ৩৩ লাখ টাকা দিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে নিলয় মাহমুদের মালিকানাধীন ‘সাদ্দাম স্টেশনারি’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে এক বছরের মাথায় আট কোটি টাকার টেন্ডারে কেউ অংশ নিয়েছেন, এমন নজির নেই। এছাড়া এতো অল্প দিনে তিনি ট্রেড লাইসেন্সসহ আনুষঙ্গিক কাজ কবে করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে এতো পরিমাণ টাকার উৎস নিয়েও

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com