বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০২ অপরাহ্ন

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট তিন-চার দিনেও ফেরি মিলছে না

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট তিন-চার দিনেও ফেরি মিলছে না

রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি : দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সারিতে আটকে আছে সহস্রাধিক যানবাহন। এখানে তিন-চার দিনেও ফেরির নাগাল মিলছে না বলে ভুক্তভোগী চালকরা অভিযোগ করেছেন। এ অবস্থার মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য এক ট্রাকচালককে চড়থাপ্পড় মেরেছেন বলে ওই চালক অভিযোগ করেন।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় বৃহস্পতিবার পদ্মা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তীব্র স্রোতের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি ফেরি নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এ ছাড়াও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। যে কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় কয়েক দিন ধরে তৈরি হচ্ছে পণ্যবাহী যানবাহনের লম্বা সারি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের অন্তত ৩ কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। এর মধ্যে রয়েছে শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহন। এছাড়া একইভাবে ঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে আহলাদিপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ প্রান্তে সহস্রাধিক গাড়ি আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ঘাট সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হলেও পদ্মা-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে নৌরুটের ফেরিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে ফেরির ট্রিপের সংখ্যা কমে গেছে।

পদ্মায় সার্ভে, লঞ্চ চলবে পদ্মা সেতুর নিচ দিয়েই : এদিকে পদ্মা নদীর বর্তমান গতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে যৌথ সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটের পদ্মা সেতু এলাকাসহ শিমুলিয়া, বাংলাবাজার ও মাঝিকান্দি পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করে সার্ভে টিম। সার্ভে শেষে প্রতিনিধি দল জানায়, সবার সঙ্গে আলাপ করে ও নদী পর্যবেক্ষণ করে লঞ্চ চলাচল পদ্মা সেতুর নিচ দিয়েই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে স্রোত আরও বাড়লে লঞ্চ বন্ধ করা হবে, আর কমলে ফেরি চালানো হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক আবদুল মতিন সরকার, বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আব্দুস সোবাহান প্রমুখ।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com