বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

চাকরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মিলিয়নিয়ার!

চাকরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মিলিয়নিয়ার!

শশী কিরণ শেট্টির পারিবারিক ব্যবসা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন তার বয়স মাত্র ২২ বছর। ব্যবসা বন্ধে অনেকটাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাই ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং একরাশ স্বপ্ন সঙ্গী করে চলে আসেন ভারতের মুম্বাইয়ে। কমার্স পড়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেওয়া শশী কিরণ মুম্বাইয়ে এসে থিতু হতে না হতেই শুরু করে দেন বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির আবেদন।

অনেক কোম্পানি ঘুরেও জোটাতে পারলেন না চাকরি নামক সোনার হরিণটি। এই করতে করতে একদিন তিনি এলেন মুম্বাইয়ের বন্দরে। এসে দেখলেন দৈত্যাকার সব জাহাজ। তখনই পরিকল্পনা করলেন এ জাহাজই হবে তার ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি।

বন্দরে একটি কোম্পানিতে শুরু করলেন চাকরিজীবন। বেতন সামান্য কিছু অর্থ। ছোট্ট ওই সংস্থায় কাজ করতে করতে ভাবলেন নিজের ভবিষ্যতের কথা। শুরু করলেন সবার সঙ্গে যোগাযোগ। ধীরে ধীরে জাহাজের ক্যাপ্টেন, ম্যানেজার, নাবিক ও বন্দরের অন্য কর্মীদের সঙ্গে গড়লেন সুসম্পর্ক। এরই ফাঁকে অল্প অল্প করে তিনি জানতে লাগলেন ব্যবসার খুঁটিনাটি। এই করে কেটে গেল ৪টি বছর। এতদিনে চাকরি করে জমিয়েছেন ২৫ হাজার টাকা। এবার তিনি ভাবলেন নিজেই কিছু একটা করা যাক। ওই ভাবনা থেকেই এ সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে শুরু করলেন তার লজিস্টিক ব্যবসা।

শশী কিরণ শেট্টি অফিস নিলেন মুম্বাইয়ের ডিমেলো রোডে। নিয়োগ দিলেন ৪ জনকে। শুরু হলো ব্যবসা। আয় কিছুটা বেড়ে যাওয়ার পর মালপত্র পাঠানোর জন্য ভাড়া নেওয়া শুরু করলেন ট্রাক। এরই মাঝে বেশ কয়েকটি শিপিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে শশী কিরণ শেট্টি। ব্যবসা থেকে হওয়া আয় দিয়ে দিতেন কর্মীদের বেতন। এর পর নিজের হাতে অল্প কিছু টাকা রেখে ব্যবসার জন্য মালপত্র কিনতেন তিনি। ব্যবসা বড় হতে থাকলে নিজে নিয়োগ দেন ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞদের। ছোটখাটো সব অর্থ লেনদেনের সিদ্ধান্তেই তারাই নিয়ে থাকেন। এই কোম্পানি শুরুর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ ব্যবসাই তাকে বানিয়ে দেয় একজন মিলিয়নিয়ার।

বর্তমানে অলকার্গো লজিস্টিক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইসিইউ ওয়ার্ল্ডওয়াইডের চেয়ারম্যান ও গাতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। ১৬০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৩০০ অফিস এবং দশ হাজারেরও বেশি কর্মী আছে শশী কিরণ শেট্টির কোম্পানিতে। ২০২০ সালে ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শশী কিরণকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বোর্ড অব গভর্নরস হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০১৪ সালে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় আশীর্বাদ নামের একটি বিলাসবহুল বাংলো কিনে নেন- যেটি এক সময় বলিউড অভিনেতা রাজেশ খান্না বাড়ি ছিল।

শুধু ব্যবসা নয়, শশী কিরণ শেট্টি ও তার স্ত্রী আরাথা শেট্টির রয়েছে একটি ফাউন্ডেশন। এর নাম, আভাশ্যই ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা হয়।

ইন্ডিয়ান মেরিটাইম বিজনেসম্যান অব দ্য ইয়ার, ডিস্টিংশন অব দ্য কমান্ডার অব দ্য অর্ডার অব লিওপোল্ড-২, বান্টস স্টার আইবিসিসিআই অ্যাচিভার অব অ্যাওয়ার্ড ২০২০ ইন বিজনেস ক্যাটাগরি, গ্লোবাল লজিস্টিক পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার, নিউজ মেকার অব দ্য ইয়ার, ইন্টারপ্রেনার অব দ্য ইয়ার, লজিস্টিক কোম্পানি অব দ্য ইয়ারের মতো অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন শশী কিরণ শেট্টি। ইন্টারনেট থেকে পাওয়া তথ্য মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ইউএস মার্কিন ডলার।

ষ গ্রন্থনা : রাফসান নিঝুম

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com