বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

ভাড়া বিমানে ক্ষতি ১১শ কোটি টাকা

ভাড়া বিমানে ক্ষতি ১১শ কোটি টাকা

মিসর থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজ ভাড়া আনায় সরকারে ক্ষতি হয়েছে ১১শ কোটি টাকা। এর সঙ্গে জড়িত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের তলব করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তবে প্রথম দিনে দায় নিলেন না বৈঠকে তলব করা বিমানের দুজন কর্মকর্তা। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে হাজির হয়ে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

বৈঠকে উপস্থিত সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য আমাদের সময়কে বলেছেন, মিসর থেকে উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের সবাইকেই কমিটি ডেকেছে। বৈঠকে বিমানের দুজন হাজির হয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করেছে সংসদীয় কমিটি। সেই আলোকে বিমানের ওই কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। প্রথম দিনে দুজনকে ডাকা হয়েছিল। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল মুনিম মোসাদ্দেক আহমেদ বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে আছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তির সময় তারা দায়িত্বে ছিলেন না।

কমিটির সদস্য তানভীর ইমাম আমাদের সময়কে বলেন, এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটি গঠিত একটি সাবকমিটির প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি। বৈঠকে বিমানের সাবেক একজন এমডি এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, চুক্তির সময়ে তিনি এমডি ছিলেন না। তৎকালীন বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সাহেবও এসেছিলেন। তিনিও

একই কথা বলেছেন। তাদের প্রতিবেদনসহ পরবর্তী বৈঠকে আসতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সংসদ সদস্য বলেন, সংসদীয় কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময়ে কারা দায়িত্বে ছিলেন, পরিদর্শনে গিয়েছিলে কারা, লিগ্যাল এক্সপার্ট ছিলেন কারা, চুক্তি করেছেন কারা। এসব বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সবাইকে ডেকে তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এর পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

সাত বছর আগে ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটি পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিজ নিয়েছিল বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে এবং অন্যটি একই বছরের মে মাসে। এক বছরের কম সময় অর্থাৎ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। পরে ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও নষ্ট হয়ে যায়। সেই ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তবে কোনো সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। সে কারণে ইজিপ্ট এয়ার এবং মেরামতকারী কোম্পানি- উভয়কেই অর্থ দিতে হয়েছে বিমানকে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত বছরের অক্টোবর মাসে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানায়, দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজের পেছনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষতি হয়েছে ১১শ কোটি টাকা।

ওই বৈঠকে জানানো হয়, এই উড়োজাহাজ দুটি চালিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২২শ কোটি টাকা, আর খরচ হয়েছিল ৩৩শ কোটি টাকা। দুটি উড়োজাহাজের জন্য প্রতিমাসে বিমান ১১ কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। সেই দায় থেকে ওই বছরের মার্চ মাসে মুক্ত হতে পেরেছে বিমান। গত দশম সংসদের বিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও এই বিমান দুটি লিজ নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।

কমিটির সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, তানভীর ইমাম, আশেক উল্লাহ রফিক, আনোয়ার হোসেন খান, শেখ তন্ময়, সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং কানিজ ফাতেমা আহমেদ অংশ নেন।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com