সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ন

৯/১১ হামলা ও তালেবানি শাসন

৯/১১ হামলা ও তালেবানি শাসন

ইতিহাসের বিভীষিকাময় ৯/১১ আজ। ২০০১ সালে বিমান হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা হয়। হামলায় নিহত হয় প্রায় ৩ হাজার মানুষ। এ হামলার প্রভাব পড়ে ছিল সারাবিশ্বে। আল কায়েদা এ হামলা চালিয়েছে দাবি করে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইরাক, আফগানিস্তানকে দিতে হয়েছে চড়া মূল্য। আফগানিস্তানে অবস্থান নেয় মার্কিন সেনারা। তালিবানি শাসনের অবসান ঘটিয়ে আফগানদের নিয়ে শাসনব্যবস্থা কায়েম করে। ২০ বছর অবস্থানের পর সম্প্রতি আফগানিস্তান ছাড়ে মার্কিন সেনারা। সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান দখলে নেয় তালেবান।

১১ সেপ্টেম্বরের হামলা

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে পূর্ব আমেরিকার আকাশপথ দিয়ে ওড়া চারটি বিমান একইসঙ্গে ছিনতাই করে। তার পর বিমানগুলো তারা ব্যবহার করে নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানার জন্য বিশাল ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আল কায়েদার এই সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলায় মারা যায় ৭৭টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের ২,৯৭৭ জন (১৯ জন ছিনতাইকারী বাদে)। চারটি বিমানের ২৪৬ জন যাত্রী এবং ক্রুর প্রত্যেকে মারা যান।

টুইন টাওয়ারের দুটি ভবনে মারা যান ২,৬০৬ জন- তাৎক্ষণিক ও পরে আঘাত থেকে পেন্টাগনের হামলায় প্রাণ হারান ১২৫ জন। নিউইয়র্ক শহরে যারা প্রথম ঘটনাস্থলে জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় দৌড়ে যান, তাদের মধ্যে মারা যান ৪৪১ জন। ৬,০০০-এর অধিক মানুষ আহত হয় এবং ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক অবকাঠামো ও সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

লক্ষ্যবস্তু কী ছিল?

প্রথম বিমান আঘাত হানে নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে। দ্বিতীয়টি সাউথ টাওয়ারে বিধ্বস্ত করা হয়। দুটি ভবনেই মানুষজন আটকা পড়ে যায়। শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কু-লী। দুটি টাওয়ার ভবনই ছিল ১১০ তলা। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে দুটি ভবনই বিশাল ধুলার ঝড় তুলে মাটিতে ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনের সদর দপ্তরের পশ্চিম অংশে আঘাত হানে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে ছিল আমেরিকান প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশাল এই সদর দপ্তর পেন্টাগন ভবন। এর পর চতুর্থ বিমানটি আছড়ে পড়ে পেনসিলভেনিয়ার এক মাঠে। ছিনতাই হওয়া চতুর্থ বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পর সেটি পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয় ছিনতাইকারীরা চতুর্থ বিমানটি দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল ভবনে আঘাত হানতে চেয়েছিল।

উদ্দেশ্য

ওসামা বিন লাদেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি পবিত্র যুদ্ধের ঘোষণা দেন এবং মার্কিনিদের হত্যার জন্য বিন লাদেন ও অন্যদের ১৯৯৮ সালে একটি ফতোয়া স্বাক্ষরকে তদন্ত কর্মকর্তারা তার উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। ২০০২ সালের নভেম্বরে বিন লাদেনের ‘লেটার টু আমেরিকা’তে তিনি তাদের হামলা সম্পর্কিত আল কায়েদাদের উদ্দেশে ব্যাখ্যা করেন, তন্মধ্যে রয়েছে :

* ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

* সোমালিয়ায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে হামলায় সমর্থন

* মরো সংঘর্ষে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনকে সমর্থন

* লেবাননে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ইসরায়েলকে সমর্থন

* চেচনিয়ায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রে রুশদের সমর্থন

* মুসলমানদের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে প্রো-মার্কিন সরকার

* কাশ্মীরে ভারতকে মুসলমানদের শোষণের বিরুদ্ধে সমর্থন

* সৌদি আরবের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি

হামলার মূল পরিকল্পনাকারী

ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ২০ বছর আগে ভয়াবহ হামলা চালানোর মূল পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়েছে খালিদ শেখ মোহাম্মদ সংক্ষেপে কেএসএম-এর বিরুদ্ধে, তিনি আমেরিকার কারাগারে আটক। সেখানে তার বিচার চলছে। খালিদ শেখ মোহাম্মদের একজন আইনজীবীদের তথ্যানুযায়ী, এই মামলার বিচারকার্য শেষ হতে আরও ২০ বছর লেগে যেতে পারে।

আল জাজিরার সাংবাদিক ইয়োসরি ফুদা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে খালিদ শেখ মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করেন এবং জানান তার সঙ্গে ছিলেন রামজি বিন আল-শিভ। নয়/এগারো কমিশন রিপোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রধান মোহাম্মদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈরিতার কারণ হলো ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির বিরুদ্ধে তার সহিংস অসম্মতি। খালিদ শেখ মোহাম্মদের জন্ম কুয়েতে। পড়াশোনা আমেরিকায়। ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করেছেন। ২০০৩ সালে খুঁজে বের করার পর তাকে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার করা হয়।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ ১৯৯৩ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার উপদেশদাতা ও অর্থের জোগানদাতা ছিলেন এবং তিনি এই হামলার প্রধান বোমা হামলাকারী রামজি ইউসুফের মামা। ‘খালিদ শেখ মোহাম্মদের সাবস্টিটিউশন ফর টেস্টিমনি’তে বলা হয়ে পাঁচজন ব্যক্তি এই হামলার বিস্তারিত সম্পর্কে জানতেন। তারা ছিলেন ওসামা বিন লাদেন, খালিদ শেখ মোহাম্মদ, রামজি বিন আল-শিভ, আবু তুরাব আল-উরদুনি ও মোহাম্মদ আতেফ।

যেভাবে টুইন টাওয়ারে হামলার আইডিয়া পেয়েছিলেন লাদেন

আল কায়েদার সাময়িকী আল-মাসরাহতে ‘সেপ্টেম্বর ১১ হামলা- না বলা গল্প’ শিরোনামের একটি লেখায় দাবি করা হয়, ১৯৯৯ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে মিসরের একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা থেকে ৯/১১-এর হামলার ধারণা পেয়েছিলেন ওসামা বিন লাদেন। ওই প্রচারণার সাময়িকীতে দাবি করা হয়, মিসরের কো-পাইলট গামিল আল-বাতৌতির গল্পই ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রেরণা ছিল। আটলান্টিক মহাসাগরে মিসরের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল, তার কো-পাইলট ছিলেন গামিল। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কায়রোগামী বিমানটি গামিল ইচ্ছাকৃতভাবে সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন বলে কথিত রয়েছে।

ওই ঘটনায় বিমানের ২১৭ জন আরোহী নিহত হন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। মিসরের তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, কো-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবেই বিমানটি সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছেন। আরব উপদ্বীপের আল কায়েদা আনসার আল-শরিয়ার ওই সাময়িকীর তথ্যমতে, মিসরের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর শুনে ওসামা জানতে চান, কো-পাইলট বিমানটিকে পার্শ্ববর্তী কোনো ভবনে কেন বিধ্বস্ত করেননি?

আল-মাসর সাময়িকীর দাবি, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণটি জানার চেয়ে বরং বিপর্যয় ঘটানোর নতুন ভয়াবহ কৌশলের দিকে ওসামা বিন লাদেনের আগ্রহ ছিল বেশি। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার জন্য বিমান ছিনতাইকারী ছিল মোট ১৯ জন। এদের মধ্যে তিনটি দলে ছিল পাঁচজন করে, যারা বিমান হামলা চালায় টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে। আর যে বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় ভেঙে পড়ে তাতে ছিনতাইকারী দলে ছিল চারজন। প্রত্যেক দলে একজন ছিনতাইকারীর বিমান চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ ছিল। এই ছিনতাইকারীরা তাদের পাইলটের ট্রেনিং নেন খোদ আমেরিকার ফ্লাইং স্কুলে। পনেরো জন ছিনতাইকারী ছিলেন সৌদি-ওসামা বিন লাদেনের মতো। দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের, একজন মিসরের এবং একজন লেবাননের।

হামলা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

২০০১ সালে ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে আল কায়েদা হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগে আফগান সরকারের কাছে ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তর করার আহ্বান জানায়। তালেবানরা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। নাইন-ইলেভেনের ওই হামলার এক মাসেরও কম সময় পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগানিস্তান আক্রমণ করেন আল কায়েদাকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করতে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই অভিযানে যোগ দেয় আন্তর্জাতিক মিত্র জোট। যুদ্ধ শুরুর ১০ বছর পর ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে মার্কিন সৈন্যরা অবশেষে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে এবং তাকে হত্যা করে।

নাইন-ইলেভেন হামলার অভিযুক্ত পরিকল্পনাকারী, খালিদ শেখ মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে গুয়ান্তানামো বের বন্দিশিবিরে আমেরিকার তত্ত্বাবধানে আটক করে রাখা হয়। এখনো তিনি বিচারের অপেক্ষায় আছেন। ২০০১ সালে শুরু হয় আফগান যুদ্ধ। জর্জ ডব্লিউ বুশ শুরু করা এই যুদ্ধ বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরে জো বাইডেনের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয়। ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স, ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ২০০১ সালের হামলার পর থেকে ১৯ বছর ১০ মাসে আফগানিস্তানে যুদ্ধে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ৩ হাজার ৫৮৬ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৭১ জনের, বেসামরিক মানুষ নিহত হন ৭৮ হাজার ৩১৪ জন, আর তালেবানসহ সরকারবিরোধী যোদ্ধা নিহত হওয়ার সংখ্যা ৮৪ হাজার ১৯১।

আল কায়েদা

ওসামা বিন লাদেন, আবদুল্লাহ আজমাম এবং সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় বেশ কয়েকটি আরব স্বেচ্ছাসেবীর দ্বারা ১৯৮৮ সালে আন্তঃদেশীয় সালাফিবাদ জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা প্রতিষ্ঠিত হয়। আল কায়েদা ইসলামি চরমপন্থি এবং সালাফিবাদী জিহাদিদের একটি নেটওয়ার্ক হিসাবে কাজ করে। সংগঠনটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্ত কাউন্সিল (ইউএনএসসি), উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো), ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত এবং অন্যান্য বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসাবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

আল কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন ১৯৯৬ সালে তার ঘাঁটি সুদান থেকে আফগানিস্তানে নিয়ে যান। ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে তালেবান তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। এই পাঁচ বছরে ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে আল কায়েদা আফগানিস্তানে গেড়ে বসেছিল। সেখানে তারা সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তোলে। কুকুরের ওপর বিষাক্ত গ্যাসের পরীক্ষা শুরু করে। বিভিন্ন দেশ থেকে কমবেশি ২০,০০০ জিহাদি স্বেচ্ছাসেবী জোগাড় করে আফগানিস্তানে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়।

আল কায়েদা ১৯৯৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে বোমা হামলা, ১১ সেপ্টেম্বর হামলা এবং ২০০২ সালে বালি বোমাসহ বিভিন্ন দেশে অ-সামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিসরীয় আয়মান আল-জাওয়াহিরি। অনেক লম্বা সময় ধরে আল-জাওয়াহিরির কোনো খবর পাওয়া যায়নি, এমন কোনো বার্তা প্রচার হয়নি। এই অনুপস্থিতিতে জল্পনা-কল্পনা চলছে যে, হয়তো মারা গেছেন বা শারীরিকভাবে অসমর্থ হয়ে পড়েছেন। আল কায়েদা এখনো টিকে আছে। আফ্রিকায় সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের দেশগুলোতে যেমন সোমালিয়া এবং মালিতে আল কায়েদা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী। তবে আফগানিস্তানের ভেতরেও এখন আল কায়েদার সদস্য রয়েছে। প্রায় বিশ বছর পর আমেরিকান সৈন্য আফগানিস্তান ছেড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন আল কায়েদা হয়তো আফগানিস্তানে আবার ঘাঁটি গাড়তে শক্তি সঞ্চয় করতে সচেষ্ট হবে।

৯/১১ হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশ

৯/১১ হামলা তদন্তের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং গোপনীয় প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কংগ্রেস এবং ওই হামলায় আক্রান্তদের পরিবারের প্রবল চাপের মুখে এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই আদেশে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘৯/১১ হামলার ২০তম বার্ষিকী সামনে রেখে এই হামলা সম্পর্কে তাদের সরকার যা জানে তার পূর্ণ চিত্র জানার অধিকার আমেরিকান জনগণের রয়েছে।’ ওই আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণ রেকর্ড প্রকাশ করতে হবে। তবে অতি গোপনীয় কিছু থাকলে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। হামলাকারী ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি নাগরিক। এ ঘটনায় সৌদি সরকার বা সরকারের কর্মকর্তারা অর্থায়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে রিয়াদ।

* ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ : যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে তালেবান-সমর্থিত আল কায়েদা জঙ্গিদের বিমান হামলা; প্রাণহানি প্রায় ৩০০০

* ৭ অক্টোবর ২০০১ : আফগানিস্তানে তালেবান ও আল কায়েদার বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর সামরিক অভিযান

* ১৩ নভেম্বর ২০০১ : মার্কিন যৌথবাহিনীর সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতায় নর্দান অ্যালায়েন্সের কাবুলের ক্ষমতা দখল

* ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ : টুইন টাওয়ার হামলার ২০ বছর পূর্তির দিনে তালেবান সরকারের শপথ নেওয়ার কথা

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com