শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫১ অপরাহ্ন

৬০ লাখ টাকার বিনিময় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নাম দেয়ার অভিযোগ দিঘীনালা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ

৬০ লাখ টাকার বিনিময় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নাম দেয়ার অভিযোগ দিঘীনালা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ৬০ লাখ টাকার বিনিময় তালিকার ১ নম্বরে নাম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।এতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে দীঘিনালা উপজেলার ১নং মেরুং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
উপজেলার কবাখালী ইউনিয়ন বোয়ালখালী ইউনিয়নও এইগী নেতাদের বাদ দিয়ে একই কায়দায় নব্য আওয়ামী নেতাদের তালিকার শীর্ষে নাম দিয়েছে দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগ এর প্রার্থী বাছাই কমিটি।
জানা গেছে ৩ নং কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকাযর প্রথমে রয়েছে কষাই বারেক এর নাম। যে কিনা বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলে কুখ্যাত এমপি সন্ত্রাসী ওয়াদুদ ভুঁইয়ার ডোনার ছিল। ২ নন বোয়ালখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় প্রথমেই রয়েছে গাছ চোর মোস্তফার নাম। মোস্তফা ও সন্ত্রাসী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ডোনার ছিল। সুযোগে তারা ভোল পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। টাকার দৌরত্বের কারণে ত্যাগী নেতারা হয়েছে তালিকা বঞ্চিত। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক উজ্জল চৌধুরি দুঃখ ও ক্ষোভে হাইব্রিডদের সাথে নির্বাচন না করার কথা বলে সভা ত্যাগ করে চলে যান। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মৃদুল কান্তি সেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মান-সম্মানের ভয়ে কাউন্সিলে অংশগ্রহণ করেননি তিনি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মাহবুব আলম, কবাখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ রওশন আলী ভূঁইয়া এই ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের নিকট লিখিত অভিযোগ করে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কিসের বিনিময়ে এই হাইব্রিড নেতারা এখন ইউনিয়নের কর্ণধার হিসেবে তালিকায় স্থান পেল?
অপরদিকে ১ নং মেরুন ইউনিয়নের দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রহমান কবির রতন এর নাম ও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বাছাই কমিটির তালিকা শীর্ষে রয়েছে। ঝাজুরের ছিদ্রের মত অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। জানা যায় ১ নং মেরুং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রহমান কবির রতন চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় নমিনেশন পেতে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে তালিকার এক নম্বরে তার নাম লিখিয়েছেন। হাটে বাজারে দোকান পাটে রহমান কবির রতন নিজেই বলে বেড়াচ্ছেন আমার দলীয় নমিনেশন কনফার্ম। 60 লাখ টাকা দিয়েছি, আমি পাব নৌকার টিকিট।
রহমান কবির রতন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়াতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কাবিখা, ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা সহ বিভিন্ন দান-অনুদান এর টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুজিব বর্ষের উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহ নির্মাণে প্রতিটি গৃহের বিপরীতে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পত্রপত্রিকাসহ ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। মাই টিভি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে তার বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র।সমাজসেবা অধিদপ্তরের দীঘিনালা উপজেলা কর্মকর্তা বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ করে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করেছেন এই চেয়ারম্যান রহমান কবির রতনকে।
উপজেলায় এমন কোন অবৈধ কাজ নেই যেখানে এই রতনের অংশগ্রহণ নাই। গাছ চুরির মাছ চুরি মাদক ব্যবসা মাদক চোরাচালান সকল অপকর্মের সাথে জড়িত এই রহমান কবির রতন চেয়ারম্যান। 1 নং মেরুম ইউনিয়নের প্রবীণ নেতা রুহুল আমিন বলেন অসৎ চরিত্র অসাধু ও দুর্নীতিবাজদের হাতে নৌকা তুলে দিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দীঘিনালায় ব্যাহত হবে। ।এহেন অবস্থায় এই অসাধু, গরীবের টাকা আত্মসাৎকারী ও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনকারী ধনকুবের রহমান কবির রতনকে পুনরায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দলীয় নমিনেশন তালিকায় শীর্ষস্থান দিয়ে পাঠানোয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই অসৎ ব্যক্তি কে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন দিলে এলাকায় দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। এলাকাবাসী দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক মাননীয় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর নিকট এই অসাধু অর্থ আত্মসাৎ কারি রহমান কবির রতনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com