শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

কঠোর শাস্তিতেও লাগাম টানা যাচ্ছে না

কঠোর শাস্তিতেও লাগাম টানা যাচ্ছে না

কোভিড-১৯ মহামারীতে নানা সময় নানা পরিস্থিতিতে ‘মানবিক পুলিশের’ স্বাদ পায় দেশের মানুষ। এই মানবিকতা সব মহলে প্রশংসিতও হয়। কিন্তু পুলিশের এই মানবিক ভাবমূর্তি বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে বাহিনীর কিছু সদস্যের ‘অমানবিক’ কর্মকাণ্ডে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ছোট ছোট বিষয় যেমন আছে, তেমনি আছে খুন, ছিনতাই কিংবা ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধে জড়ালে মাত্রা অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কতিপয় সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি সংকটে ফেলা যাবে না।

পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর পুলিশের বিরুদ্ধে গড়ে ১৮ থেকে ২৫ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ১০ থেকে ১৩ হাজার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শাস্তি হয় দুইভাবে; লঘুদণ্ড ও গুরুদণ্ড। প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই লঘুদণ্ড হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বিভাগীয় মামলায় ৬৭ হাজার ৩৯ জন পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৮৯৯ জনকে লঘুদণ্ড এবং ৩ হাজার ৬২৩ জনকে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গুরুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত করা। ওই পাঁচ বছরে ৫১৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর পর ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে গুরুদণ্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায়িছে ৫ হাজার ৩৯৬ জনে; যা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি।

শাস্তি হওয়া ৬৭ হাজার ৩৯ জনের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে তদুর্ধ্ব (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ৪৬, পরিদর্শক ২৬২, কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার ৬৬ হাজার ৭৩১ জন। পরিসংখ্যান বলছে, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরাই শাস্তির মুখে বেশি পড়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার ডিআইজি হায়দার আলী আমাদের সময়কে বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনাতেই আলাদা আলাদা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’

পুলিশ সদর দপ্তর ২০১৯ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, মোট অভিযোগের ৫০ শতাংশ এসেছে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা পড়া অভিযোগ থেকে, অনলাইনে এসেছে ৭ শতাংশ, আইজিপি’স কমপ্লেইন মনিটরিং সেল থেকে এসেছে ২৭ শতাংশ, গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে ৭ শতাংশ এবং বিভিন্ন দপ্তর সংস্থা/দপ্তর থেকে এসেছে বাকি ৯ শতাংশ অভিযোগ। অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল- ঘুষগ্রহণ, মাদকসংশ্লিষ্ট অভিযোগ, পারিবারিক সমস্যা, নৈতিক স্খলন, মিথ্যা মামলায় জড়ানো, মামলার তদন্তে পক্ষপাত, দুর্ব্যবহার-আধিপত্য বিস্তার, পুলিশ ভেরিফিকেশন, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে চাকরিতে যোগদান, ট্রাফিক পুলিশের অনিয়ম, অবাধ্যতা ইত্যাদি।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com