রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ১২:১৬ অপরাহ্ন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় অনশন থেকে সরে এসেছেন শিক্ষার্থীরা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় অনশন থেকে সরে এসেছেন শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তারা এখন ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে গত রবিবার দুপুর থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্রদের হাতে অবরুদ্ধ রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীসহ ১৪ শিক্ষক এবং ২০-২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী রাত আড়াইটার দিকে মুক্ত হয়ে বাসায় ফিরে যান।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদ মাহমুদ খান জানান, বিসিক বাসস্ট্যান্ডের শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধের কথা জানিয়ে ফোন দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। এর পর শাহজাদপুর থানা স্ট্রাইকিং ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে। পরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দিন পর অনশন থেকে সরে এসে সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছেন। আন্দোলনরত ছাত্রদের মুখপাত্র আবু জাফর হোসাইন বলেন, ‘সোমবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা আমাদের ক্যাম্পাসে এলে বর্তমান পরিস্থিতির অচলাবস্থা নিরসনে স্যারকে অনুরোধ জানাই। তিনি উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। আমরা সেই সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের অফিস রুমে সোমবার দুপুরে আমার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ন্যায় বিচারের আশ্বাস চেয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চায়। আমি বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলেছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, ‘আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য আবদুল লতিফ স্যারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসব। এ বৈঠকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টাকরী শামীম হোসেন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘটনার পরদিন রাতে নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর পরই ওই শিক্ষকের স্থায়ী অব্যাহতির জন্য আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে আবেদন জানিয়ে দুই সপ্তাহ সময় নিয়েও তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হননি ফারহানা ইয়াসমিন। ফলে তার বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। গত শুক্রবার দীর্ঘ সময় চলা সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী অব্যাহতির সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দফা আন্দোলনে যাওয়ায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য আবদুল লতিফ অবশ্য বলেন, ‘ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী অব্যাহতির ব্যাপারে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও একটু সময় নেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এ জন্যই সিন্ডিকেটের এ সভা স্থগিত করা হয়। তবে খুব শিগগিরই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।’

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com