শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

বিশ্বনেতারা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি

বিশ্বনেতারা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি

চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সিরিজ আলোচনা চললেও এখনো পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপার ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি উন্নত দেশগুলো। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশকে ২০২০ সাল থেকে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি। উপরন্তু ২০২১ সালও শেষের দিকে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেন সম্ভব হয় সে আলোচনা চলছে টেকনিক্যাল পর্যায়ে। চলমান আলোচনা সফল হলে ২০২২ সাল থেকে অর্থ ছাড় করতে পারে ধনী দেশগুলো। এসব বিষয়ে আজ সোমবার থেকে মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হবে। গতকাল রবিবার সম্মেলন বন্ধ ছিল।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অর্থায়নে ধনী দেশগুলোর আগের মতো অনড় অবস্থানের কারণে বহুল প্রত্যাশিত গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনের সফলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। এমন অবস্থায় ২০২৫ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন হিসাবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি হিসেবে থাকবে কিনা সেই অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বন জনবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংসদীয় কমিটর সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন,আলোচনা চলছে। আশা করছি, এবার অগ্রগতি হবে। এবারও আলোচনায় ছিল ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিশ্চিত হওয়া নিয়ে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস উঠে আসে ক্লাইমেট ভারনারেবল ফোরামের আলোচনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে।

জলবায়ু সম্মেলন বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিকুর রহমান বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ উন্নত দেশগুলোর চেয়ে কম; অতীতে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের দায়ভারও উন্নত দেশগুলোর। অথচ উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সাইক্লোন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খড়া, নদী ও পাহাড় ভাঙা অনেক বেড়ে গেছে। এখন প্রতিবছরই ঘূর্ণিঝড়-সাইক্লোন হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর প্রভাব থেকে বাঁচা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে আসা জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্র উচ্চতা বেড়ে গেছে। গোপালগঞ্জে লবণাক্ত পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে এই লবণাক্ত ২-১টি ফসলে ক্ষতি হয়েছে।

তারা বলছেন, দুর্যোগে ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাস্তুচ্যুত ও দেশান্তর হওয়া বাংলাদেশে একটা প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে ক্ষেত্রে মাইগ্রেশন, বাস্তুচ্যুত ইস্যুগুলোকে বিভিন্ন প্লাটফর্ম/নেগোসিয়েশনের টেবিলে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতায় আঘাত আনতে পারে। সেজন্য আমাদের মেকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন সহজে চলে যাবে না, বাড়তেই থাকবে, এখান থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হবে এবং অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন পলিসিতে আমরা আমাদের কথা তুলে ধরছি। এলডিসি থেকে আমরা বেরুবার কথা কিন্তু আমরা বের হতে পারছি না। ২০২৬ সাল লাগবে বের হতে। আমরা কীভাবে এলডিসি থেকে বের হতে পারি সে পথ বের করতে হবে।

এদিকে জলবায়ু সম্মেলনের সফলতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। এরই মধ্যে গ্লাসগো সম্মেলন লক্ষ্য অর্জনে ‘ব্যর্থ’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। প্রতিবাদকারীরা এই সম্মেলন বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে যথেষ্ট ঘাটতি দেখিয়েছে বলেও দাবি করেছেন। গত শুক্রবারের পর গত শনিবার গ্লাসগোতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন।

আয়োজক সংস্থা এবং স্কটল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার গ্লাসগোর রাস্তায় প্রায় কয়েক হাজার লোক বিক্ষোভে সমবেত হয়েছে। ইতোমধ্যেই এই গ্রহ উষ্ণতার শিকার হয়েছে উল্লেখ করে পরিবেশবাদীরা বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী কীভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখা যায় সে বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় ২০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা গ্লাসগোতে অবস্থান করছেন। কপ-২৬ আলোচনার মাঝামাঝি কিছু দেশ গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি স্বাক্ষর করেছে, আলাদা এক চুক্তি হয়েছে পর্যায়ক্রমে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনার বিষয়ে। জৈব জ্বালানি তহবিল বন্ধ করা এবং মিথেন কমানোর জন্য প্রতিশ্রুতি এসেছে।

বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ২০২১ সালে মহামারী পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে আসছে এমন রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তারা নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com