শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

বাসে চলতে হচ্ছে বেশি ভাড়া গুনেই

বাসে চলতে হচ্ছে বেশি ভাড়া গুনেই

রবিবার সকাল ৮টা। রাজধানীর কাজীপাড়া যেতে মিরপুর ১০ নম্বরে বিহঙ্গ পরিবহনে ওঠেন সাইদুর রহমান। ভাড়া দিতে গিয়ে কন্ডাক্টরের কথায় চোখ কপালে ওঠার দশা। ৮ টাকার বদলে তার কাছে আদায় করা হয় ২০ টাকা। অল্প দূরত্বের যাত্রায় তাকে গুনতে হয় মিরপুর থেকে ফার্মগেটের ভাড়া। কন্ডাক্টর হাসান হাফিজের কথায়, ‘সব স্টপেজ থেকে মানুষ তুললে যাত্রীরাই মাইন্ড করে। এইজন্য বেশি ভাড়া নেওন লাগে’। স্বাধীন এক্সপ্রেসের বাসে করে আগারগাঁও থেকে মৎস্যভবন যাবেন আনিস। কিন্তু তার কাছ থেকে আদায় করা হয় গুলিস্তানের ভাড়া। গতকাল সরেজমিনে এসব চিত্র দেখা গেছে।

গত ৮ নভেম্বর ঢাকায় বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ৪৫ পয়সা বেড়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা হয়েছে। বিহঙ্গ পরিবহনে পল্লবী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিল ২৯ টাকা। যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতেন। এখন ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা। আদায় করা হয় ৫০ টাকা। অধিকাংশ রুটে ২৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া যে রুটে ১০ টাকা বেড়েছে, সেখানে ২০ টাকা বাড়তি নিচ্ছে। একই অবস্থা রাইদা পরিবহন ও গ্রীন অনাবিল পরিবহনেও। দুটি পরিবহন চলে জুরাইন থেকে টঙ্গী কামারপাড়া রুটে। এসব বাসে বিআরটিএ সরবরাহকৃত চার্ট নেই। তাদের মনগড়া ভাড়া দিতে হচ্ছে। ওয়েবিল সিস্টেম এখনো আছে সেসব বাসে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এখনো আদায় হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। পরিবহননেতারা সিটিং সার্ভিস বন্ধের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা চলছে। এ জন্য ওয়েবিল ধরা হয় এখনো। সিটিং সার্ভিসের বাসে কত যাত্রী উঠল তা তদারকির জন্য পথে মালিকের প্রতিনিধি থাকেন, এদের বলা হয় চেকার। তারা বাস

থামিয়ে কত যাত্রী উঠেছে, তা নথিতে লিখে দেন। এই নথিকে বলে ওয়েবিল। ওয়েবিলে যদি ৩০ জন যাত্রীর কথা লেখা হয়, তা হলে মালিককে সমসংখ্যক যাত্রীর বিপরীতে ভাড়া বুঝিয়ে দিতে হবে। কোনো যাত্রী স্বল্পদূরত্বে নেমে কম ভাড়া দিলেন কিনা, তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। মিরপুর হয়ে চলাচলকারী প্রায় সব পরিবহনের বাসে ওয়েবিল ব্যবস্থা রয়ে গেছে। ঢাকার মৎস্যভবন ও হাইকোর্ট মোড় এলাকায় দাঁড়িয়ে বাস শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পথ হয়ে চলাচলকারী বাসেও সিটিং সার্ভিস ব্যবস্থাই বহাল আছে।

গতকাল বিআরটিএর অভিযানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ মিলেছে। ১১টি স্পটে বিআরটিএর ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬৫টি ডিজেলচালিত বাসকে ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। আর গাড়ির কাগজপত্র সঠিক না থাকার কারণে একটি গাড়িকে পাঠানো হয়েছে ডাম্পিংস্টেশনে। গতকালের ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৩৩টি ডিজেলচালিত ও ১৭টি সিএনজিচালিত বাস মিলে মোট ২৫০টি বাস-মিনিবাস পরিদর্শন ও তল্লাশি করা হয়। অভিযানকালে ৬৫টি ডিজেলচালিত বাসের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার, পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. সরওয়ার আলম ও উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. হেমায়েতউদ্দিন তল্লাশি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com