শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

বিচার চলছে ছয় বছর, সাক্ষ্য মাত্র ৯ জনের

বিচার চলছে ছয় বছর, সাক্ষ্য মাত্র ৯ জনের

ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১১ শ্রমিকের প্রাণহানিতে দায়ের মামলায় ৯ বছরেও বিচারে অগ্রগতি নেই। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় বিচারকাজ থমকে আছে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বরের ওই দুর্ঘটনার তিন বছর পর ২০১৫ সালে মামলার বিচার শুরু হয়। এর পর গত ৬ বছরে ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র ৯ জনকে হাজির করতে পেরেছে। এভাবে চললে নির্মম এ প্রাণহানির ঘটনার বিচার কবে শেষ হবে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২০১৫ সালে বিচার শুরুর পর প্রথম দুই বছরে ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এর পর ২০১৮ ও ২০২০ সালে কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৯ সালে একজন এবং চলতি বছর একজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে ১০৪ সাক্ষীর এ মামলায় মাত্র ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পেরেছেন আদালত। মামলায় তাজরীন গার্মেন্টসের মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তারসহ ১৩ জন আসামি।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচার চলা এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে। বর্তমানে ওই আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা। সাক্ষী হাজির না হওয়া সম্পর্কে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রেহানা আক্তার বলেন, চার্জশিটে সাক্ষীদের যে ঠিকানা দেওয়া আছে সেখানে সমন ও ওয়ারেন্ট পাঠানো হলেও পুলিশ তাদের পাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি সাক্ষী হাজির করতে। তিনি আরও বলেন, সবশেষ যিনি সাক্ষী দিয়েছেন, তিনি বলেছেন সাক্ষী খুঁজে দেবেন। এখন দেখা যাক কী হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী না আনতে পারায় আসামিরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরাও চাই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক।

ওই অগ্নিকাণ্ডে আহত হন ১০৪ জন। গার্মেন্টসটিতে ১ হাজার ১৬৩ জন শ্রমিকের মধ্যে দুর্ঘটনার সময় কর্মরত ছিলেন ৯৮৪ জন। ৫৩টি লাশের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা যায়নি। সেগুলো জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। মামলাটিতে ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন সিআইডির ইন্সপেক্টর একেএম মহসীনুজ্জামান। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ভবনটির নকশায় ত্রুটি, জরুরি নির্গমনের পথ না থাকা এবং আগুন লাগার পর নিরাপত্তাকর্মীরা একে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া বলে শ্রমিকদের বের হতে না দিয়ে কাজে ফেরত পাঠিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়ায় এত হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com