• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
Headline
সৌদির কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা শিল্প-কারখানায় মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতসহ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদাভিত্তিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই: স্পিকার সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামীকাল সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে হুথিরা ইতালি থেকে দেশে ফিরলেন বাঁধন, বিমানবন্দরে যা বললেন উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলো আহত সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিনকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ‘এসডিজি ভিলেজ’ দৃষ্টান্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক / ৮০ Time View
Update : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে দেশে প্রথমবারের মতো ‘এসডিজি ভিলেজ’ (SDG Village) পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় তিনটি গ্রামেরও উদ্বোধন করেন তিনি। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘Navigating Five Year Strategic Framework for Achieving SDGs: Policy, Partnership and Priorities’ শীর্ষক এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণএবং আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রাপথে এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারেক রহমান বলেন, এসডিজির প্রতিপাদ্য ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির মিল রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে এসডিজির খুব বেশি অমিল নেই।

বিএনপির সব পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি সব সময়ই জনবান্ধব। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। এই ফাইভ-ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সমন্বিত করেছে।

জনগণের রায়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, এর পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদেরকেও সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তিনটি গ্রামের নাম ঘোষণা করেন। গ্রাম তিনটি হলো-দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিংগাছড়ি।

এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু-এমপ্লয়মেন্ট, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের কথা জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, আমি আশা করি ‘এসডিজি ভিলেজ’ মডেল বিশ্বের সামনে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডেভেলপমেন্ট মডেল হিসেবে দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে অবাধ নির্বাচন ও আইনের শাসন থাকবে; একটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন; এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।

এসডিজি বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category