• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
Headline
শিল্প-কারখানায় মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতসহ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদাভিত্তিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই: স্পিকার সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামীকাল সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে হুথিরা ইতালি থেকে দেশে ফিরলেন বাঁধন, বিমানবন্দরে যা বললেন উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলো আহত সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিনকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সিরাজদিখানে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

মেঘনায় মিলছে না ইলিশ, ঋণের জালে বন্দি জেলেরা

অনলাইন ডেস্ক / ৬৪ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

ভরা মৌসুমেও রূপালি ইলিশের দেখা নেই চাঁদপুরের মেঘনায়। জাল ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। প্রকাট আকালের কারণে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন স্থানীয় জেলেরা। একদিকে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে জালে মাছ না ওঠায় দৈনিক খরচটুকুও উঠছে না। এমন পরিস্থিতিতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এই অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা।

খালি পেটে ফিরছেন জেলেরা: সরেজমিনে চাঁদপুরের মেঘনা তীরের বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি নোঙর করা জেলে নৌকা। চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ততা ও হাঁকডাকের কোনো চিহ্ন নেই। জেলা শহরের রেলওয়ের বড় স্টেশন এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আগে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মণ ইলিশ বিক্রি হলেও, এখন সারাদিনে মাত্র দুই মণের মতো মিলছে। একই হাল হরিণা ফেরিঘাটের আড়তেও; সেখানে দিনে সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই মণ ইলিশও জমছে না। বহু জেলে নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।

খরচের কিস্তি উঠছে না, বাড়ছে ঋণের চাপ: চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলেরা জানান, সারাদিন নদীতে ঘুরে মাত্র ৫-৬টি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে নৌকার জ্বালানি খরচও ওঠে না। বেশিরভাগ জেলাই বিভিন্ন এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নৌকার সরঞ্জাম গুছিয়েছিলেন, মাছ না পাওয়ায় এখন কিস্তি পরিশোধ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আনন্দ বাজার এলাকার জেলে ইসমাইল দেওয়ান জানান, ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনায় জাল ফেলে মাত্র ছয়-সাতটি মাছ পান, যা বিক্রি করে জ্বালানি খরচ বাদ দেওয়ার পর সাতজনের ভাগে মাত্র ১০০ টাকা করে জমে। বহরিয়া গ্রামের জেলে হান্নান গাজী জানান, খরচ না ওঠায় বাধ্য হয়ে তিনি এক সপ্তাহ ধরে নদীতে যান না; অনেকেই এখন বিকল্প পেশার সন্ধানে বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

আকাশছোঁয়া দাম, সংকট কাটছে না আড়তেও: ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। হরিণা ফেরিঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ২,৪০০ থেকে ২,৫০০ টাকা এবং ৪০০-৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জানান, দক্ষিণাঞ্চল থেকেও ইলিশের আমদানি কম। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও মৎস্য বিভাগের আশ্বাস: মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ বদল এবং মোহনায় ডুবোচর সৃষ্টির কারণে মাছের বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ও জাটকা নিধনের প্রভাবকেও এই সংকটের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না দিলে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকিতে পড়বে।তবে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, এ বছর আমদানি কিছুটা কম হলেও আগামী মাস থেকে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে; বিশেষ করে অক্টোবর মাসে নদীতে ইলিশের বিচরণ আরও বাড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category