• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
সৌদির কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা শিল্প-কারখানায় মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতসহ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদাভিত্তিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই: স্পিকার সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামীকাল সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে হুথিরা ইতালি থেকে দেশে ফিরলেন বাঁধন, বিমানবন্দরে যা বললেন উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলো আহত সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিনকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বদলে যাচ্ছে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল, গতিশীল হচ্ছে ভূমি সেবা

জাহাঙ্গীর আলম রাজু , নিজস্ব প্রতিবেদক : / ২৩ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

 ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে ভূমি সেবা কার্যক্রমে গতি আনতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। কানুনগো মো. মনিরুল ইসলাম সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে গুরুত্ব দেওয়ায় সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত আশুলিয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভূমি সেবা নিতে রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে আসেন।

নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, রেকর্ড সংশোধনসহ জমিজমা সংক্রান্ত নানা কাজে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি,কানুনগো মো. মনিরুল ইসলাম সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান, নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে ভূমি সেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি কাজের গতিও বাড়ছে।

সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভূমি অফিসে একটি কাজ করতে কী ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন,কোথায় আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া কী এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অফিস থেকেই এসব তথ্য সহজে পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।

একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান,ভূমি সংক্রান্ত কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে না জানার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। সরাসরি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে আসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। এতে সরকারি ভূমি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

আকস্মিক পরিদর্শনের পর গুরুত্ব বেড়েছে সেবাব্যবস্থায় এদিকে চলতি বছরের জুন মাসে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনেও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সেবা কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক পরিবেশের বিভিন্ন বিষয় সামনে আসে। এরপর থেকেই অফিসের সেবাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কানুনগো মো. মনিরুল ইসলাম সরকার বলেন, “সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসেন। তাদের যেন অযথা সময় নষ্ট না হয় এবং প্রয়োজনীয় সেবা নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত পাওয়া যায়,সে বিষয়টি কে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং দাপ্তরিক কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।”তিনি আরও বলেন, “ভূমি সংক্রান্ত প্রতিটি কাজ সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। সেবাপ্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে-এটাই আমাদের লক্ষ্য।

ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মোমিন নামের এক সেবাপ্রার্থী বলেন,“আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভূমি সেবার মান উন্নত করতে হলে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুরো দাপ্তরিক ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সেবাপ্রার্থীদের দ্রুত তথ্য দেওয়া,আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তিতে গতি আনা,নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ভূমি অফিস গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন,“আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলে ভূমি সেবার ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা যেন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকে। এতে সাধারণ মানুষের সময়,অর্থ ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সরকারি ভূমি সেবার প্রতি মানুষের আস্থাও আরও বৃদ্ধি পাবে।”সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,

সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজলভ্য করা, দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত সেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলে ভূমি সেবার মান আরও উন্নত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category