বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

হৃদরোগীর দুর্ভোগ চরমে

হৃদরোগীর দুর্ভোগ চরমে

ডলার সংকটে ভাটা পড়েছে দেশের আমদানি খাতে। এর ঢেউ এসে পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি করতে না পারায় কয়েক মাস আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে কয়েকটি পরীক্ষা। সর্বশেষ জীবন রক্ষাকারী মেডিক্যাল ডিভাইস আমদানি করতে না পারায় মারাত্মক স্থবিরতা নেমে এসেছে হৃদরোগ চিকিৎসায়; সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ কার্ডিয়াক সার্জারি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হৃদরোগীদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।

এদিকে ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতেও একই কারণে সৃষ্টি হয়েছে সংকট। এ কারণে দাম বাড়ছে ওষুধের। সংকট উত্তরণে যাদের ভূমিকা জরুরি প্রয়োজন, সেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরস্পরের কাঁধে দায় চাপিয়ে দায়িত্ব সারছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এমন সংকট অন্যান্য খাতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর সমাধানে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে এগিয়ে আসা উচিত।

বছর খানেক হার্টের অ্যাওটিক ভাল্বে সমস্যা দেখা দেয় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কামরুন্নাহারের (৫৫)। গত বছরের শেষের দিকে ভাল্ব পরিবর্তনের জন্য রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসেন তিনি; কিন্তু কয়েক দফায় সময় দিয়েও ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। কারণ এলসি জটিলতায় গত তিন মাসেও ভাল্ব আমদানি করতে পারেনি সরবাহকারী প্রতিষ্ঠান। ভাল্ব প্রতিস্থাপন না হওয়ায় প্রায় সময় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কামরুন্নাহার। তীব্র হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি।

কামরুন্নাহারের ভাই তৌফিক হাসান আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের একাধিকবার সময় দিয়েছেন চিকিৎসক; কিন্তু এলসি নিয়ে ঝামেলার কারণে নাকি ভাল্ব আসছে না। তা হলে বিনাচিকিৎসায় রোগী কি মারা যাবে- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জন্মগত হৃদরোগে (হার্টের ছিদ্র) আক্রান্ত রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মো. ইফতেখার আহমেদের ১৫ বছরের ছেলে জুনায়েদ আকন্দ। গত বছরের মাঝামাঝি তাকেও আনা হয় রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, জুনায়েদের সার্জারি করতে হবে। এ জন্য প্রস্ততি হিসেবে একটি অক্সিজেনেটরসহ বেশকিছু সার্জিক্যাল ডিভাইস কিনতে বলেন চিকিৎসকরা; কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠান ঘুরেও সন্তানের জন্য এ পর্যন্ত অক্সিজেনেটরের ব্যবস্থা করতে পারেননি ইফতেখার আহমেদ। ফলে সার্জারিও হয়নি।

হৃদরোগের চিকিৎসায় এসব জীবনরক্ষাকারী মেডিক্যাল ডিভাইস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে এলসি নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, গত আট মাসেও এর নিরসন হয়নি। বরং সংকট আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় হৃদরোগের মতো জটিল রোগগুলোর চিকিৎসা-সরঞ্জাম পাওয়া একেবারে কঠিন হয়েছে।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com