রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার সময়ে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা দেশটিকে গভীর বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর মতে, যুদ্ধকালীন নির্বাচন ইউক্রেনের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। রোববার যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। এর আগে গত সপ্তাহে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধ চললেও নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা ইউক্রেনীয়দের মধ্যে বিভেদ বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা হলে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইউক্রেনের প্রচলিত আইনে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই। এর বাইরে নিরাপত্তাঝুঁকি, বিদেশে অবস্থানরত লাখ লাখ নাগরিক, রুশ দখলদারির অধীনে থাকা অঞ্চল এবং সম্মুখযুদ্ধে থাকা সেনাদের কারণে যুদ্ধের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাও কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্ররা যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে যুদ্ধ চলাকালীনও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মিত্র দেশ এমন কোনো বাস্তব পরিকল্পনা দেয়নি। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচনের বিষয়ে ইউক্রেনীয়দের অনাগ্রহের চিত্র উঠে এসেছে। কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের জরিপ অনুযায়ী, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন হওয়া উচিত।
জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থন বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। তবে জরিপ পরিচালনাকারীদের মতে, ইউক্রেনীয়দের একটি অংশ রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চাইলেও চলমান যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ খুবই কম। জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন ইউক্রেনের জন্য ‘সুনামির’ মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এতে দেশ আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে। তাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য এখন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।
এদিকে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে জেলেনস্কির সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন তিনি জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। তবে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি ফেদোরভ।