• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
Headline
শিল্প-কারখানায় মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতসহ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদাভিত্তিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই: স্পিকার সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামীকাল সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে হুথিরা ইতালি থেকে দেশে ফিরলেন বাঁধন, বিমানবন্দরে যা বললেন উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলো আহত সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিনকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সিরাজদিখানে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

প্রেম যমুনার ঘাটে সে আসবেই

Reporter Name / ৮৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

সাহিত্য ডেস্ক: পূর্ব আকাশে সূর্যের আলো ফোটার আগেই প্রেম যমুনার ঘাটে এসে বসেছে রিতু। মাথায় হাত দিয়ে নিঃশব্দে নদীর দিকে তাকিয়ে আছে। রাজু কথা দিয়েছিল–সূর্য ওঠার আগেই ঘাটে পৌঁছাবে। আজ তারা একসঙ্গে পালিয়ে যাবে। সেই বিশ্বাসেই ছোট্ট একটি ব্যাগ নিয়ে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে রিতু। একের পর এক নৌকা ওপার থেকে এপারে ভিড়ছে। মাঝিদের হাঁকডাক, যাত্রীদের কোলাহল–সবই চলছে আগের মতো। শুধু আসছে না রাজু। প্রতিটি নৌকা ঘাটে ভিড়লেই রিতুর বুকের ভেতর আশার ঢেউ ওঠে, আবার মুহূর্তেই তা ভেঙে পড়ে। অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামে। তবু রাজুর দেখা নেই। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে রিতুর মনে ভেসে ওঠে দুই মাস আগের এক পড়ন্ত বিকেলের স্মৃতি। সেদিন এই একই ঘাট থেকে নৌকায় চড়ে বগুড়া যাচ্ছিল রিতু। নৌকায় উঠতে একটু ভয় পাচ্ছিল সে। ঠিক তখনই এক তরুণ হাত বাড়িয়ে বলেছিল, ‘সাবধানে, আমার হাতটা ধরুন।’
রিতু সংকোচ নিয়ে হাত বাড়াতেই তরুণটি তাকে নিরাপদে নৌকায় তুলে দিয়েছিল। সেই ছিল রাজুর সঙ্গে প্রথম পরিচয়।

বিস্তীর্ণ যমুনার বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল নৌকা। নদীর বুকে জেগে থাকা বালুচরগুলো সাদা কাশফুলে ঢাকা। দূরে কয়েকটি কুকুর নিশ্চিন্তে হাঁটছে। একপাল হাঁস জলের ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে। ছোট ছোট মাছধরা নৌকায় জেলেরা জাল ফেলছে। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে সাদা বকের ঝাঁক। পড়ন্ত বিকেলের সোনালি আলোয় পুরো নদী যেন এক জীবন্ত ছবিতে পরিণত হয়েছিল। প্রকৃতির সেই অপার্থিব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রিতু বলেছিল, ‘এক্সকিউজ মি, আমাকে একটা ছবি তুলে দেবেন?’
রাজু হেসে উত্তর দিয়েছিল, ‘শিওর, হোয়াই নট?’
‘থ্যাংক ইউ।’
‘ইটস ওকে।’

সেই ছবিই হয়ে উঠেছিল তাদের পরিচয়ের প্রথম উপলক্ষ। ঘাটে পৌঁছে রাজু বিনয়ের সঙ্গে রিতুর ফেসবুক আইডি চেয়েছিল। শ্যামলা বর্ণের ছিমছাম গড়নের মেয়েটিকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিল তার। বাসায় ফিরে রাজু মেসেজ করল, ‘হাই, বাসায় পৌঁছেছেন?’
রিতু প্রথমে চিনতে না পেরে লিখল, ‘কে আপনি?’
‘আমি আপনার অপূর্ব মুহূর্তের ফটোশ্রমিক।’
রিতুর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল, ‘ও আচ্ছা, আপনি!’
‘জি, আমি রাজু। কেমন আছেন?’
‘ভালো আছি। একটু আগেই বাসায় পৌঁছেছি। আপনাকে ধন্যবাদ।’
‘ধন্যবাদ কেন?’
‘আমাকে সাহায্য করলেন, আবার ছবিও তুলে দিলেন।’
‘এটা তো আমার দায়িত্ব ছিল। একটা কথা বলি?’
‘শিওর।’
‘পড়ন্ত বিকেলের সেই প্রকৃতির মাঝেও আপনার হাসিটাই সবচেয়ে সুন্দর ছিল।’
রিতু মৃদু হেসে লিখেছিল, ‘ওটার কৃতিত্ব কিন্তু আপনার।’
‘কীভাবে?’
‘আপনি এত সুন্দর করে ছবিটা তুলেছেন বলেই।’
‘না, ছবি সুন্দর হয়েছে কারণ আপনি সুন্দর।’
‘মোটেও না। আপনার চোখ আর হাতের ছোঁয়াতেই ছবিটা সুন্দর হয়েছে।’
রাজু শুধু লিখেছিল, ‘ধন্যবাদ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category