• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী আমি বাদাম বিক্রেতা, আলহামদুলিল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলাইছি আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার হোটেল রয়েল ইন নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশকে সেরা পরামর্শ বললেন ইশরাক দাকোপ থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপে গান গেয়ে সাময়িক বরখাস্ত হলেন পুলিশের এএসআই প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার ফ্রান্সে দাঙ্গা : ব্যর্থতা স্বীকার করে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি সরকারের রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ

সুদানে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত

অনলাইন ডেস্ক / ১৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

সুদানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও শিশুরাও রয়েছে। চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার রাজধানী খার্তুমে ড্রোন হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ নামের একটি সংগঠন। সুদানের গৃহযুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এসব হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং সরকারি বাহিনী উভয় পক্ষকেই দায়ী করা হচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে তারা সংঘাতে জড়িত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে রোববার সন্ধ্যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত আল-দিবাব শহরের একটি বাজারের কাছে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় পরিবহনকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সেখানে ড্রোন হামলায় ৮০ জন নিহত হন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় আহত ৪৭ জনকে কাছের আল-মুজলাদ শহরে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ৩০ জন মারা যান বলে জানিয়েছেন এক চিকিৎসা সূত্র।

আরএসএফের স্বঘোষিত প্রশাসন ‘তাসিস’ এবং ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ এ হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।

এদিকে পূর্ব সুদানের গাদারেফ রাজ্যে আতবারা ও সেটিত বাঁধ লক্ষ্য করে আরএসএফের কয়েকটি ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র। রোববার এ তথ্য জানানো হয়। বাঁধ দুটি রাজধানী খার্তুমের প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আরএসএফ।

সোমবার ভোরে দক্ষিণ দারফুর রাজ্যের রাজধানী এবং আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিয়ালায় আরেকটি ড্রোন হামলা হয়। চিকিৎসা ও আরএসএফ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় সাত আরএসএফ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন।

এর আগে শুক্রবার ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী সুদানের ব্লু নাইল প্রদেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি সমাবেশে আরএসএফের ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’। ঘটনাটিকে মানবিক বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

সুদানে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফপ্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি হেমেদতি নামেও পরিচিত, আধাসামরিক বাহিনীকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এর পরই দেশটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

গত জুনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে হেমেদতিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চতুর্থ বছরে গড়ানো এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি। তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর ধারণা, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সহায়তা সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category