বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

১৪ জুন কী ঘটেছিল

১৪ জুন কী ঘটেছিল

দেখতে দেখতে কেটে গেল দুই বছর। আজ বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালে লকডাউনের মধ্যেই আচমকা পাওয়া যায় তার মৃত্যুর খবর। এই দুঃসংবাদ নাড়িয়ে দিয়ে যায় গোটা বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে। প্রিয় তারকার অকালপ্রয়াণে স্তম্ভিত ও শোকাতুর হন ভক্তরা। পুলিশের দাবি, নিজের ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেন সুশান্ত। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তাই বলছে। এখনো ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন, ১৪ জুনের ওই অভিশপ্ত দুপুরে বান্দ্রার কার্টার রোডের মাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যাপার্টমেন্টে ঠিক কী হয়েছিল? ঘটনার দুই বছর পরও অধরা সেই প্রশ্নের উত্তর। ২০২০ সালের আগস্টে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে সুশান্তের মৃত্যু মামলার দায়িত্ব যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। তবে প্রায় ২২ মাস পরও এখনো ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা স্পষ্টভাবে জানায়নি, আত্মহত্যা নাকি খুন?

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

১৪ জুন সুশান্তের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন আরও চারজন। প্রয়াত অভিনেতার ক্রিয়েটিভ ম্যানেজার সিদ্ধার্থ পিঠানি, সুশান্তের বাবুর্চি নীরাজ এবং দুই পরিচালক কেশব ও দীপেশ সাওয়ান্ত। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম এবং সিবিআই ও মুম্বাই পুলিশকে দেওয়া বয়ানে সিদ্ধার্থ পিঠানি ও সুশান্তের রাঁধুনি নীরাজ ওইদিনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জেনে নিই সেসব কথা।

ম্যানেজার সিদ্ধার্থ পিঠানির বক্তব্যে জানা যায়, ‘১৪ জুন সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে ড্রইংরুমে গান শুনছিলাম। সেই সময় সুশান্তের স্টাফ কেশব এসে আমায় জানায়, স্যার (সুশান্ত) দরজা খুলছে না। এর পর আমি এই কথাটা দীপেশকে বলি। আমরা দুজনে সুশান্তের ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিই, কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।’ ওই সময় সুশান্তের বোন মিতু সিং সিদ্ধার্থ পিঠানিকে ফোন করে জানান- সুশান্তকে ফোন করছেন, জবাব মিলছে না। দরজা ধাক্কিয়েও কোনো উত্তর না পেয়ে মিতু সিংকে জানান সিদ্ধার্থ, দ্রুত তাকে আসতে বলেন। এর পর বিল্ডিং গার্ডের কাছ থেকে চাবিওয়ালার খোঁজ নেন দীপেশ। তার কাছ থেকে কোনো খোঁজ না পেয়ে ইন্টারনেট থেকে মুহাম্মদ রাফি নামের এক চাবিওয়ালার নম্বর জোগাড় করে ফোন করেন পিঠানি। বেলা ১টা ২০ মিনিট নাগাদ সেই চাবিওয়ালা এসে জানান, চাবি তৈরিতে সময় লাগবে। তালা ভাঙার নির্দেশ দেন পিঠানি। ফোনে এই সিদ্ধান্ত মিতু সিংকেও জানান সিদ্ধার্থ। তালা ভাঙা হলে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি এবং দীপেশ।

সুশান্ত মামলার গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ পিঠানি আরও বলেন, ঘর ছিল অন্ধকার। আলো জ্বেলে তারা দেখেন, সিলিংফ্যানে ঝুলছে সুশান্তের নিথর দেহ। মুখটা জানালার দিকে ফেরানো। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে মিতু সিংকে ঘটনা জানানো হয়, এর পর অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। সুশান্তের অন্য বোন নীতু সিংকেও গোটা ঘটনা জানান পিঠানি। কিছু সময় পর আবার ফোন করেন নীতু। তার স্বামী আইপিএস অফিসার ওপি সিং সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ নামাতে বলেন। তারা সুশান্তের দেহ নিচে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। ততক্ষণে মিতু সিং চলে আসেন। তার কথামতোই সুশান্তের নিথর দেহে প্রাণ আছে কিনা, দেখার চেষ্টা করেন পিঠানি। এর পর বান্দ্রা পুলিশের একটি টিম অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছায়।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com