• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
Headline
একরামুল হত্যা: বদিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ডিএনএ টেস্টে মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭ বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ৮ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ৫ শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যা, ১২ বছর পর বাবার মৃত্যুদণ্ড মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধকালীন নির্বাচনকে ‘সুনামি’ বললেন জেলেনস্কি দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সরবরাহে সরকার ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭

অনলাইন ডেস্ক / ২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের উপকণ্ঠে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হামলার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতিসংঘের হাইতিবিষয়ক সমন্বিত কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রবেশপথের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা কেনসকফে গত বছর থেকে সশস্ত্র গ্যাংয়ের অন্তত এক ডজন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতার কারণে হাজারো মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

হাইতির মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা শুরু হয় বলে জানায় সংগঠনটি। তবে পরিস্থিতি ও তথ্যের ঘাটতির কারণে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন বলে জানিয়েছে তারা।

হামলার পর কেনসকফের পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি হামলা হলেও সাধারণ মানুষকে রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

হাইতি সরকার এ হামলাকে ‘নৃশংস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, কেনসকফকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হবে না। সেখানে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরুতে টানা দুই মাস কেনসকফে গ্যাংয়ের হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ওই সময় প্রায় ২০০টি বাড়ি ধ্বংস বা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। এরপরও এলাকায় ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু চুরিসহ আরও বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই হাইতির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়ছে। বিদেশি সহায়তায় দেশটির দুর্বল পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে হাইতি। তবে সাম্প্রতিক গ্যাং সহিংসতার কারণে নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

জাতিসংঘের সমর্থনে গঠিত গ্যাং দমন বাহিনী চলতি শরতের মধ্যে ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি সদস্যের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে দেশটির ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category