• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ আলী মর্তূজার বিরুদ্ধে প্রকল্প ও নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৭ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিভাগীয় পরীক্ষা ও পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ থাকার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলী মর্তূজা কীভাবে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পদোন্নতি পেয়েছেন—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় পরিক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই।

প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থে ক্রয় কার্যক্রম এবং জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোহাম্মদ আলী মর্তূজার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট একটি নথিতে তার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে ২৬ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী মর্তূজা প্রকল্পের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে ২৬ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত তিনি প্রকল্প পরিচালকের সাময়িক দায়িত্বও পালন করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথির দাবি অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে ই-জিপির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এসব ক্রয় কার্যক্রমে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও প্রক্রিয়া অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এছাড়া টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও মোহাম্মদ আলী মর্তূজার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেই সভাপতির দায়িত্ব পালন করে টেন্ডার মূল্যায়ন সম্পন্ন করেন। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন কার্যক্রম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

১৬ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জনবল নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ
নতুন ১৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতের অর্থায়নে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও মোহাম্মদ আলী মর্তূজার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের কারণে শেষ পর্যন্ত মহাপরিচালককে নিয়োগ কার্যক্রমটি বাতিল করেন।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন বিভাগীয় পরিক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েই। ফলে বিষয়টি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ না করে অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ার পর মোহাম্মদ আলী মর্তূজাকে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের উপপরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোহাম্মদ আলী মর্তূজার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পরীক্ষা, পদোন্নতি, ১৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিয়োগ বাতিল এবং প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমসংক্রান্ত সরকারি আদেশ ও তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category