• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
শরীর চর্চা ও সুখী মনের আশ্রম বইটি সার্ক ভুক্ত দেশে প্রচারের দায়িত্ব নিলেন প্রফেসর আবেদ আলী মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার-সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন নয়: হাইকোর্ট ভারতের ৪ কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র যাচাই-বাছাইহীন সংবাদ প্রকাশে বিরত থাকার আহ্বান ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ইয়াবাসহ এএসআই গ্রেপ্তার, ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ একরামুল হত্যা: বদিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ডিএনএ টেস্টে মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭ বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ৮ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ৫

মাধবপুরে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ১৩ জনকে হত্যার হুমকি

Reporter Name / ৬১ Time View
Update : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ডাকযোগে কাফনের কাপড় ও বেনামি হুমকির চিঠি পাঠিয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতাসহ ১৩ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলার আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি পার্সেলের ভেতর থেকে কাফনের কাপড় ও হাতে লেখা চিঠি পাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডাকযোগে একটি বড় পার্সেল আসে। পরে পার্সেলটি খুললে এর ভেতরে সাদা কাফনের কাপড় এবং হাতে লেখা একটি বেনামি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলমকে উদ্দেশ করে কয়েক দিনের মধ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এই চিঠি পাওয়ার পর তোর জীবনে যা আছে করার করে নে। এরপর মাত্র কয়েকদিন বেঁচে থাকবি। আগুন নিয়ে খেলার পরিণাম বুঝবি।’

শুধু চেয়ারম্যান নন, চিঠিতে স্থানীয় আরও ১২ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।হুমকির তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন, মিসির আলী, আব্দুল গফুর, মিজান কন্ডাক্টর, বজলু, সৈয়দ শিব্বির, আনাস, তালহা, তানজিল ও নোমানসহ আরও কয়েকজন।

এ ছাড়া চিঠিতে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করে বর্তমান চেয়ারম্যানকে সরিয়ে তাদের মধ্য থেকে কাউকে ওই পদে বসানোর কথাও বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলম বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেনে-শুনে কারও ক্ষতি করেননি। কারও অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল। অতীতেও তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়ানো হলেও তিনি কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তবে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে এভাবে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, নিজের পাশাপাশি হুমকির মুখে থাকা অন্যদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত। ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা দ্রুত তদন্ত করে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে হুমকির ঘটনার পর মাধবপুর থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। পার্সেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, চিঠিটি কারা লিখেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত,এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা আগামীর দিনকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ডাকযোগে কাফনের কাপড় ও হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আদাঐর ইউনিয়নসহ মাধবপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা কী উদ্দেশ্যে এমন হুমকি দিয়েছে, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না,তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনপ্রতিনিধি ও একাধিক ব্যক্তিকে একসঙ্গে লক্ষ্য করে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকির ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের। তাই ঘটনার রহস্য দ্রুত উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category