• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে ফেরার পথে খুন ইসমাইল, বাসের চালকসহ আটক ৩

অনলাইন ডেস্ক / ১২০ Time View
Update : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার উদ্দেশ্যে জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। তবে স্বজনদের কাছে তাঁর পৌঁছানো আর হলো না। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বনানী-কাকলী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে মুখ ও হাত স্কচটেপ পেঁচানো এবং রক্তাত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ইসমাইলের সাথে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও সাথে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি বাসের চালক সোহেল রানা, সুপারভাইজার সাজু ও হেলপার মনিরকে আটক করেছে র‍্যাব-১। আটককৃতদের মধ্যে চালক সোহেল রানাকে বনানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পাচারে ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের করলাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং আগে ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর পরিবার গাজীপুরে থাকলেও চার মাস আগে জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি একা জামালপুরে যান।

নিহতের ছেলে মো. হাসান জানান, ছোট বোন শারমিনের বিয়ের আয়োজন ও পারিবারিক ঋণ পরিশোধ করতে জামালপুরের ১১ শতক জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তাঁর বাবা। আড়াই লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ ও গ্রামের ঘরের কাজ শেষে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার গাড়িতে গাজীপুরের কাশিমপুরে নিজ বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। শুক্রবার সকালে আশুলিয়ার জিরানি বাসস্ট্যান্ডে বাবাকে নিতে গিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ পান হাসান। পরবর্তীতে দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে বনানী এক্সপ্রেসওয়েতে বাবার মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন তিনি।

বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার প্রস্তুতকৃত সুরতহাল প্রতিবেদনে জানান, নিহতের ডান হাতের কব্জি এবং নাক-কান স্বচ্ছ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল। মাথার পেছনে ও কপালে জখম এবং মুখ, গলায় কালচে রক্তক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফনের জন্য জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

র‍্যাব-১ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বাসচালককে শনাক্ত করে মহাখালী এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের যৌথ অভিযানে বাসের হেলপার ও সুপারভাইজারকে আটক করা হয়। প্রাথমিক ধারণা, টাকা ছিনিয়ে নিতেই তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানাতে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category