চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে চারটি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অগ্রাধিকারগুলো হলো—ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য এবং টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইকোতে অনুষ্ঠিত ‘বিএফএ গ্লোবাল হেলথ ফোরাম ২০২৬ হাইকো কনফারেন্সে’ দেওয়া বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব বিষয় তুলে ধরেন। বক্তব্যে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প আন্তর্জাতিকভাবে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১৬০টি দেশে দেশীয় ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশের ওষুধের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সহজ করার পাশাপাশি এপিআই উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এআই ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও চিকিৎসাশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পাশাপাশি অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা ও দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সুস্থ বার্ধক্য বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সমগ্র এশিয়ায় প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পুনর্বাসন সেবা, সহায়ক প্রযুক্তি, জেরিয়াট্রিক সেবা ও প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সমঝোতা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি টিকা গবেষণা, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা কতটা নিবিড়ভাবে পরস্পরকে সহযোগিতা করি, উদ্ভাবনে নজর দিই এবং যৌথভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিই তার ওপর। সম্মেলনে চীনের ১৪তম জাতীয় গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের চতুর্থ প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইংসহ চীন, লাওস, মিশর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।