• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন

তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অটোরিকশাচালক সুমন

অনলাইন ডেস্ক / ৪১ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিনকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের পর গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। তবে শহরের দিকে না গিয়ে চালক তাকে পদুয়ার বাজার থেকে বিজরার দিকে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার নির্জন সড়কে নিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। এ সময় তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে কাবু করেন সুমন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গোসল করেন। যাওয়ার সময় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান এবং সেটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে তিনি জবানবন্দি দেবেন কি না, তা পরবর্তী সময়ে জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল না।

তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওই রাতেই ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠায় সে। তবে ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি তার বাবা।

পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। পরে তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category