ডিসেম্বরকে সামনে রেখে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ধরনের অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যে কোনো মূল্যে তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিক বা কোনো শ্রমিক সংগঠন আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে জড়িত বলে তাঁরা মনে করেন না। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা হবে। শ্রমিকদের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের উৎপাদন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনোভাবেই যেন রপ্তানিতে সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারখানা বন্ধ না রেখে উৎপাদন চালু রাখার প্রত্যাশা করছে সরকার। মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠকে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিন সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি জানান, এর আগে সংবাদমাধ্যম, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময় সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপরও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকায় জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।