• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
Headline
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর একটি মহল ডিসেম্বর ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভ, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে ফের মহাসড়ক অবরোধ চলমান সংকট নিরসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের বৈঠক পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: মন্ত্রীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, বিজিবির পাহারায় ফায়ার সার্ভিস সৌদি আরব থেকে ১০ কোটি টাকা ফেরত পেলেন বাংলাদেশি হজযাত্রীরা

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’

সোমবার (২ নভেম্বর) বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অসামান্য অবদান এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষার প্রসারে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন। জনগণের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রাষ্ট্রপতির মতে, জাতীয় নিরাপত্তা কেবল সামরিক প্রস্তুতির বিষয় নয়। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সতর্কতা ও দূরদর্শিতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশ যুদ্ধ এবং নিরাপত্তার প্রচলিত ধরন বদলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভুল তথ্য, অপতথ্য ও সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এসব পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, যথাযথ বিচার-বিশ্লেষণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার দক্ষতাসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিন্ন উপলব্ধি তৈরির অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর আগে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান।

এ ছাড়া সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তৈরিতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ফ্যাকাল্টি সদস্য, এনডিসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনা কর্মকর্তা, এনডিসি কোর্সে অংশ নেওয়া বিদেশি সদস্য, আর্মি স্টাফ অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) এবং বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস থেকে ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশ থেকে ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category