দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর জন্য যোগ্য বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্বে কে থাকবেন- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো সে সংক্রান্ত চিঠির জবাবে যাচাই-বাছাই শেষে এই মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রায় ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে। সংসদ সদস্যরা বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট দেবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ান। কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফলে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যভার নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
যেহেতু তিনিই বর্তমান স্পিকার, কাজেই সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর জন্য তাকেই যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে উল্লেখ করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
এর আগে রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা-সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধান ও প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট মতামতের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ফাইল পাঠানো হয়।
আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে বলেছে, ‘বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায়, সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার যেহেতু স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সে হিসাবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর জন্যও তিনি (ডেপুটি স্পিকার) সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়বেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ। অবশ্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলই নতুন রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন।