নিজস্ব প্রতিবেদক
হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) থেকেই নতুন বছর ২০২২ সালের প্রথম দিন কাটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে বছরের নতুন দিনটি মোটেও স্বস্তিতে যায়নি তার। শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসকের ভাষ্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের দিন দিন অবনতি হচ্ছে। নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। রক্তক্ষরণও বন্ধ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো বড় বিপদ হতে পারে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য শনিবার রাতে সময়ের আলোকে জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কয়েকদিন ধরে অবনতি হচ্ছে। পরিপাকতন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এটি বন্ধ হচ্ছে না কোনোভাবে। রক্তের হিমোগ্লোবিন হু হু করে কমছে। দুদিন আগেও যা ৯-এর ওপরে ছিল। এখন তার পরিমান ৭। ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। চরম ঝুঁকির মধ্যে আছেন তিনি। ওই চিকিৎসক জানান, রক্তক্ষরণের সঙ্গে সঙ্গে সিসিইউতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইনজেকশন, অ্যান্টিবায়োটিক ও স্যালাইন দেওয়া হয়। ইলেক্ট্ররাইল ইমব্যালেন্স অর্থাৎ খনিজে অসমতা দেখা দিচ্ছে। এ জন্য শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বমিও হচ্ছে হঠাৎ। রুচি কম থাকায় জোর করে সবকিছু খাওয়াতে হচ্ছে। স্যুপের বাইরে তেমন কিছু খেতে চান না। লিকুইড ছাড়া অন্য কিছু খাচ্ছেন না। কথা কম বলছেন। প্রয়োজন হলে খুবই অল্প অল্প কথা বলছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে সালাম দিয়েছি। ম্যাডাম শুধু মাথা উঁচু করে জবাব দিয়েছেন। দোয়া চেয়েছি। ম্যাডামও সবাইকে তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন। শরীর এতই দুর্বল যে কারও সঙ্গেই কথা বলার জো নেই। আসলে আমরা ম্যাডামের এমন অবস্থা দেখে আবেগতাড়িত হয়ে যাই। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা দেখতে কার ভালো লাগবে? আর উনি রোগী হিসেবে ওনার এতদিন চিকিৎসা নেওয়া তো আরও বিরক্তির।
গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জনের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম ৭৭ বছর বয়সি সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।